জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন কল্যাণাংশু নাহা। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের বিষয়ে করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধির পরিপন্থি। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ও অডিও রেকর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ৪৩(৪) এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কল্যাণাংশু নাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, “গত সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করেছি। তবে আজকে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।”

সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কল্যাণাংশু নাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "আমার হাতে চিঠিটি এখনো পৌঁছায়নি। তাই এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করব না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোশারফ হোসেন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা শিক্ষক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তিনি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমন কনভারসেশন করেছেন, যা আমাদের নজরে এসেছে। তাই বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার স্বার্থে আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামীকাল রবিবার চিঠি ইস্যু করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।”