ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সুরমা ও বৌলাইসহ জেলার ছোট-বড় প্রায় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, ঢল ও বৃষ্টি না কমলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা ৭.২২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে। অন্যদিকে ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাতক পয়েন্টে এই নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে সুরমার। বর্তমানে এই পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির কমেছে ৭ সেন্টিমিটার।   

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টিতে বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারপুর সড়কও সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ায় ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। 

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, রক্তীসহ প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।”