সুনামগঞ্জে পাহাড় ও সমতলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার জনগুরুত্বপূর্ণ একাধিক সড়ক ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। কোথাও পানির তোড়ে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বেলা ৩টায় ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৮৫ মিটার বেড়ে মৌসুমি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর মাকুলি পয়েন্টে পানি বেড়ে ৭ দশমিক ১২ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ০৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা রয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জসহ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে পাউবোর সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুরমুখী আনোয়ারপুর সেতু-সংলগ্ন অংশ, শক্তিয়ারখলা বাজার এলাকা এবং দুর্গাপুর অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। স্রোত ঠেলে শত শত যানবাহন চলাচল করছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ-রৌয়াইল সড়ক ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ঝুঁকিতে পড়েছে। বন্যা প্রলম্বিত হলে যোগাযোগ, যাতায়াত ও জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ সড়কের রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন মিটু বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পানির চাপে ভেঙে গেছে জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ সড়ক। জগন্নাথপুর উপজেলা সদর এবং এর আশপাশের এলাকার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বড় বন্যা হলে মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।'
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ গ্রামের মো. শাহ আলম বলেন, ‘সত্তরখলা (শক্তিয়ারখলা) সড়কে পানি থাকায় আমরার যাইতে-আইতে সমস্যা হইতাছে। গাড়ি চালাইতে পারতাছি না। পানি বাড়লে আমরা গরিব মানুষের রুজি (আয়) বন্ধ হইয়া যাইব। সব মাইনষের ভোগান্তিই বাড়ব।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মো. মতিউর রহমান খান জানান, ১২টি উপজেলায় ৭২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা আছে। জরুরি সময়ে উদ্ধারকাজ এবং সহায়তার জন্য মাঝিসহ ৪৪০টি নৌকা এবং ১৪টি স্পিডবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগে জেলা ও উপজেলায় সহায়তার কাজে আগ্রহী ১ হাজার ৪৫৬ জন স্বেচ্ছাসেবীর তালিকা রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৯৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।








