“বয়সটা দু’রকম। এক. অঙ্কের ব্যাপার। দুই. মনের তৃপ্তির ব্যাপার, এই পৃথিবীকে দেখার ব্যাপার। পৃথিবীকে ভালোবাসার ব্যাপার। সেখানে বয়স বাড়ে না, যদি চেষ্টা করা হয়। যদি সুন্দর এই পৃথিবী ভালো লাগে, এখানকার মানুষগুলোকে ভালো লাগে, মাকে যারা ভালোবাসেন, তাদের বড় হওয়ার কথা নয়, তারা তো শিশুই থাকেন।”—সাত বছর আগে জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছিলেন দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। এ বয়স কেবলই সংখ্যা। জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তার বলা কথার মতোই শিশু মন নিয়ে বেঁচে ছিলেন পাপেটশিল্পের এই পথিকৃৎ।
জন্মদিন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবন দর্শন তুলে ধরেছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। বড় হওয়া ভালো কিছু নয় বলে মনে করতেন তিনি। তার ভাষায়, “জন্মদিন মানেই একটা বছর বেড়ে যাওয়া। ছোটবেলায় ভালো লাগত। মনে হতো—আমি একটু বড় হচ্ছি। একসময় মনে হলো, বড় হওয়া তো বিশেষ ভালো না, ছোট থাকাই ভালো।”
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমান মাগুরা) নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুন দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা জমিলা খাতুনকে হারান তিনি।
তবে সেই সময়ে ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করা হতো না বলে জানান মুস্তাফা মনোয়ার। তার ভাষায়—“ছোটবেলায় জন্মদিন উদযাপন সেভাবে হতো না। তবে হ্যাঁ, কিছু কিছু হতো। এখন তো জন্মদিন মানেই ঘটা করে একটা কিছু করা। তখন সেরকম কিছু ছিল না। তবে জন্মদিন যারা করেন, ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে।”
মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনের শুরুতে তৎকালীন আর্ট কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুদের জন্য নির্মিত তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে পাপেটভিত্তিক পরিবেশনা, প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয়।








