এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার পর শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা তারা অবশ্যই পেয়েছে, তবে এই সাফল্য শুধু স্বাগতিক পরিচয়ের ফল নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়েছে, কঠোর পরিশ্রম করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা মায়ামিতে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের আবহাওয়া ও মাঠের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল কানাডার। সেই পরিকল্পনার সুফলই এখন মাঠে দেখা যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস এই দলটি সামনে আরও এগোতে পারে। তবে শেষ ষোলোয় ওঠাটাই কানাডার ফুটবল ইতিহাসে অনেক বড় অর্জন।

নকআউট পর্বে এবার মাঠে নামছে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্স। গ্রুপপর্বে দলগুলো তুলনামূলক স্বাধীনভাবে খেলতে পারে। কিন্তু নকআউট পর্বে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার থাকায় ফ্রান্সের অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়। আক্রমণভাগ তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে রক্ষণভাগে এখনো কিছু দুর্বলতা চোখে পড়ে। প্রতিপক্ষ যদি ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে ফরাসি রক্ষণভাগ কখনো কখনো ছন্দ হারিয়ে ফেলে। সুইডেন সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। আমার মনে হয়, সুইডেন ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইবে। এমন ম্যাচে কাউন্টার অ্যাটাকই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। আমার ধারণা, এই ম্যাচও নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না-ও হতে পারে। গড়াতে পারে টাইব্রেকারে। দুদলই শারীরিক সক্ষমতা ও গতিনির্ভর ফুটবলে বিশ্বাসী। কেউই সহজে প্রতিপক্ষকে ছাড় দেবে না। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলো দারুণ ছন্দে রয়েছে। গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট গোছানো ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হলান্ড। পাশাপাশি তাদের বেঞ্চও যথেষ্ট শক্তিশালী। উচ্চতা নরওয়ের অন্যতম বড় অস্ত্র। বিশেষ করে সেট-পিস কিংবা গোলমুখের লড়াইয়ে এই শারীরিক সুবিধাই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে এটি হতে পারে শেষ ষোলোর অন্যতম উপভোগ্য ম্যাচ।

আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াই হবে মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের মধ্যে। দুটি দলই প্রায় একই ধরনের ফুটবল খেলে। মেক্সিকোর ফুটবল সংস্কৃতি সব সময়ই আলাদা। নিজেদের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধাও তারা পাবে। ইকুয়েডর কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও অভিজ্ঞতা, পরিবেশের সুবিধা এবং দর্শক সমর্থন মিলিয়ে আমার বিচারে কিছুটা এগিয়ে থাকবে মেক্সিকো।