বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে খাবার গ্রহণ করে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। অনশন ভাঙার পর আবেগঘন বার্তায় সোনম জানালেন, বিভিন্ন দলের ৬৫ জন সাংসদের লিখিত আবেদন, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। নাড্ডা নিজে হাতে সোনমকে খাবার খাইয়ে অনশন ভাঙান।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নাড্ডার হাত ধরে সোনম বলছেন, “আমি কৃতজ্ঞ। অনশন ভাঙতে পেরে খুশি। আপনাদের ধন্যবাদ।” এরপর পাশে থাকা স্ত্রী গীতাঞ্জলিকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।সোনম আরও জানান, অনশন ভাঙার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৬৫ জন সাংসদ তাঁকে লিখিতভাবে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনাও ইতিবাচক ছিল। সব দিক বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে গত ২৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ছাত্র-যুবদের একাংশ এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।অনশন চলাকালীন সোনমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানেও চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করে হাসপাতাল থেকেই অনশন চালিয়ে যান তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধে কার্যকর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না।এদিকে আন্দোলনের জেরে চাপ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই এগোবে।”রাতেই এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত এবং কঠোর শাস্তির বিধান সংবলিত একটি খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করবে সরকার।সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আপাতত এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আগামী দিনেও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে।