বগুড়ায় বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৃষ্টির ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শহরে ৭৯ মিলিমিটার এবং সারাদিনে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা এবং ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পথচারীদের অনেককেই হাঁটুসমান পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এসময় তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তারা জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে হেঁটে পরিস্থিতি দেখেন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রশাসক নিজে পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই তৎপরতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। অনেকেই তার এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জলাবদ্ধতার বর্তমান অবস্থা এবং নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। যে সব কারণে শহরে এই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সমাধানের কড়া নির্দেশ দেন তিনি।

সম্প্রতি শহরের যানজট নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য বগুড়া সিটি করপোরেশন অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে অনেকটাই সহনীয় অবস্থা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যানজট মুক্ত করার এই প্রচেষ্টার মাঝেই আকস্মিক এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীর দুর্ভোগ নতুন করে বাড়িয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়, এটা প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের চলমান সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমি নগরবাসীর কাছে তিন মাসের সময় চেয়েছি। আশা করছি, এর মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য নগরবাসীকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শহরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেটে ভরপুর হয়ে আছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ড্রেন উপচে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বগুড়াকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।

ঘোষিত সময়ের মধ্যেই শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এফএ/এএসএম