ইউরোপ যখন রেকর্ড তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই চীনের সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি আধুনিক খামারের শূকরগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আরাম করছে, আর ইউরোপের মানুষ ভক্তিহীন ঘরে তাপে কাহিল।চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা রসিকতা করে লিখেছেন, 'আমাদের এখানে তো শূকরদেরও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে!' এই মন্তব্য দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়, কারণ একই সময়ে ইউরোপের বহু অঞ্চলে তাপপ্রবাহে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল।২০২৬ সালের জুন মাসে ইউরোপ মহাদেশে যে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, তা ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক ও ব্যাপক উষ্ণপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের অন্তত ১৭টি দেশ এই তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন।গত শুক্রবার জার্মানিতে নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের ড্রেভিৎস এলাকায় ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসেই রেকর্ড তাপমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।ফ্রান্সে তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্যারিসের হাসপাতালগুলো ব্যাপক চাপে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই জলাশয়ে নামছেন, ফলে ফ্রান্সে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৫–তে পৌঁছেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের অনেক আধুনিক পশুপালন খামারে শূকরের স্বাস্থ্য, আরাম এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার এখন অস্বাভাবিক নয়। নিবিড় শূকর পালন পদ্ধতিতে সাধারণত বড় গুদাম-সদৃশ ভবন বা শেডের মতো হয়, যেখানে সূর্যালোক বা বাহ্যিক পরিবেশের সংস্পর্শ কম থাকে।বেশিরভাগ গৃহপালিত শূকর সূর্যালোক এবং তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল হয়, কারণ তাদের ঘাম গ্রন্থি নেই এবং তারা নিজের শরীর ঠান্ডা রাখতে পারে না। উচ্চ তাপমাত্রার প্রতি তাদের সহনশীলতা কম, এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই উপযুক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে শূকরদের বৃদ্ধি এবং খাদ্য থেকে ওজন বৃদ্ধির হার সর্বাধিক হয়। নিবিড় শূকর খামারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বায়ুচলাচল ব্যবস্থা বা জল স্প্রে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের গবেষণায় জানানো হয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই নিঃসন্দেহে দায়ী। গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছর আগেও এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিরল ছিল।কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সেখানে বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।চীনেও শূকর খামারগুলোতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে। কিন্তু ইউরোপে জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ক্রমেই এ ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে'।
রাজনীতি
তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, চীনের শূকরেরা এসিরুমে!

শেয়ার করুন







