চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি বারবার বলছি, স্থানীয় সরকারের মেয়র নির্বাচন যেন চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি বলেছি, চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচন দিন। আমি চাই, একটা গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন হোক, যেখানে সবার অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন গণতন্ত্রের ধারা ফিরে এসেছে, তেমনি সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও আমি সেটিই চাই। জনগণ তাদের ভোট যাকে খুশি তাকে দেওয়ার সুযোগ পাক।’

মেয়র বলেন, ‘আদালতের আদেশে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। আইন অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন আমি মেয়রের চেয়ারে বসলাম। আমি তাদের বলতে চাই, আমি কোনো জোর করে বা অবৈধভাবে এখানে বসিনি। আমি জুডিশিয়াল অর্ডারের বৈধতা নিয়ে এসেছি। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কারও যদি কিছু বলার থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তারা রিট করতে পারেন। আমি যদি এই বিচারিক আদেশ না বুঝতাম, তবে আমি রাষ্ট্র, আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করতাম।’

চসিকের ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ সম্পর্কে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন। নাগরিকেরা এখন ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, ময়লা আবর্জনা, সড়কবাতি, নর্দমাসহ ১০টি ক্যাটাগরির যেকোনো সমস্যা ছবি তুলে লোকেশনসহ সরাসরি এই অ্যাপের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। শুধু অভিযোগই নয়, অভিযোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, চলমান নাকি সমাধান হয়েছে, তাও লাইভ ট্র্যাক করা যাবে।

মেয়র শাহাদাত আরও বলেন, ‘এই অ্যাপের মাধ্যমে জরুরি সেবা, মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা একটি প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অফিসার ড্যাশবোর্ড, ওয়ার্ডভিত্তিক হিট ম্যাপ এবং স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা দ্রুত বুঝতে পারব কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিকদের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, অত্যাধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নির্মাণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি, সম্পূর্ণ প্রকল্পটি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে।

অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ।