ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পরও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত ও মৃতদের খোঁজ চলছে। তবে উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক স্থানে মানুষকে নিজেদের স্বজনদের খুঁজতে খালি হাত, কোদাল ও শাবল নিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়তে দেখা যাচ্ছে, অথচ পাশেই সরকারি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) জ্বালানির অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কারমেন বিয়াত্রিস ফার্নান্দেজ বলেছেন, এই বিপর্যয় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার দীর্ঘদিনের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। তাঁর মতে, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় শক্তি অন্য খাতে ব্যয় হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার হওয়া মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে চার সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বৈজ্ঞানিক, দণ্ড ও অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইসিপিসি) জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে লা গুয়াইরার বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শহরের বাতাসে পচনের গন্ধ, চারদিকে ধসে পড়া ভবনের স্তূপ। অনেক পরিবার দিন-রাত ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থান করে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাম্পা থেকে ছুটে আসা প্রকৌশলী হাসেল মেনদোজা তাঁর মা, বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেকে খুঁজছেন একটি ধসে পড়া ৯ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ড্রিল, সেন্সর বা কাটার যন্ত্র না থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে।

সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সম্ভাব্য আরও মৃত্যুর কথা বিবেচনায় নিয়ে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবু আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েক দিন পরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এখনো তাঁরা জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েননি।

সিএনএন জানিয়েছে, দুই কন্যাকে হারানো ডেইভিস রামোস দিনরাত ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে চলেছেন। চোখের জল চেপে রেখে তিনি বলেন, ‘কাঁদলে একটি পাথরও সরবে না। এখন আমার দরকার শক্তি আর ইচ্ছাশক্তি। আমরা শুধু চাই, তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় দিতে।’