ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা এলাকায় ১২ বছরের এক ছেলেশিশুকে দুই দফা ধর্ষণের ঘটনার আসামি মো. রাশেদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৩)। গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো. রাশেদ রুহিয়া থানাধীন শুখানিপাড়া আখানগর গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে। শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ২৮ জুন তাঁর মা বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় রাশেদকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে রাশেদ আত্মগোপনে ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ভুক্তভোগী শিশুটি তার বাবার সঙ্গে বাইসাইকেলে করে আখানগর বাজারে যায়। সেখানে রাশেদের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। শিশুটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেন রাশেদ। তবে বাড়িতে না নিয়ে রাত ৯টার দিকে আখানগর বাজারসংলগ্ন রেলক্রসিংয়ের ১০০ গজ উত্তরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি।

ঘটনার পর রাশেদ শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান। পরদিন শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে এসে বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকে।

এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুন বেলা ১১টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলার সময় রাশেদ আবার সেখানে যান। ভেলারহাটে ঘোরানোর কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর বেলা ২টার দিকে বোচাপুকুর এলাকায় ভুট্টা ও পাটখেতের আইলে নিয়ে শিশুটিকে আবারও ধর্ষণ করেন।

পরে শিশুটিকে তার খালার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে রাশেদ চলে যান। শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শিশুটি নির্যাতনের বিষয় জানায়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে দিনাজপুর র‍্যাব ক্যাম্পের একটি দল ঠাকুরগাঁও পৌরসভা এলাকা থেকে রাশেদকে গ্রেপ্তার করে রুহিয়া থানায় হস্তান্তর করে।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশু নির্যাতনের এই সংবেদনশীল মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’