রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও একাধিক মামলার আসামি তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার অন্যতম সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ সময় বাপ্পির অফিস থেকে একটি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী এবং মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপস্) মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এসআই মুহাম্মদ মমিনুর রহমান ও এসআই তপু চক্রবর্তীর একটি টিম হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রথমে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কমলাপুর থেকে সহযোগী রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর বাপ্পি ও রিজনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, বাপ্পির অফিসে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখা আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় ১৮ জুলাই বাপ্পি ও রিজনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীর অফিসে গুলিবর্ষণ করে একদল সন্ত্রাসী। ওই ঘটনায় ২০ মে মতিঝিল থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১৭) করা হয়। তদন্তে এই চক্রের মূলহোতা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তারা বিভিন্ন কৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে গতকালের অভিযানে বাপ্পি ও রিজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।