নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, আহত ২০
এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাব নিয়ে যান বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সগির হোসেন বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলে প্রবেশ করে আমার রুম ভাঙচুর করে এবং মূল্যাবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। আমার ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। আমার পাশের রুমের এক ভাইয়ের থেকে ট্যাব নিয়ে গেছে। এনআইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট নষ্ট করে ফেলেছে।’
আরও পড়ুন
দুদিন দফায় দফায় সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির
আরেক শিক্ষার্থী শরীফ আবদুল্লহ বলেন, “আমি গণিত বিভাগের ছাত্র। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চুক্তিভিত্তিক ট্র্যাফিক কর্মী হিসেবে কাজ করি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না। কিন্তু আজ বিকেলে ছাত্রদল নেতা অনিক আমার রুমে প্রবেশ করে বলে আমি ‘এনসিপি করি, শিবির করি’ এসব বলে আমাকে বেল্ট দিয়ে মারধর শুরু করে। তারা আমার একটি ট্যাব, দুটি মোবাইল, মানিব্যাগ ও বিছানার নিচে রাখা হল ফি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতি করেও ছাত্রদলের ছেলেরা আজকে আমাকে শিবির আখ্যা দিয়ে মেরেছে।’
এ বিষয়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, ‘শিবিরের একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপে যারা যুক্ত আছে তারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালায়। তাদের ফোন চেক করে সেগুলো সাময়িক জব্দ করে পরবর্তীতে হল সুপারের কাছে দিয়ে এসেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়নি।’
আরও পড়ুন
‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে’
তবে ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি জানা নেই বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।’
এর আগে দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে শিবির।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/জেআইএম








