জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও শুরু করেছে নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির জন্য এই নির্বাচনকে শুধু আরেকটি নির্বাচন হিসেবে নয়, বরং সরকার পরিচালনার প্রথম পর্যায়ে জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের ভাষায়, সরকার গঠনের পর এটাই হবে জনগণের সামনে বিএনপির প্রথম বড় রাজনৈতিক মূল্যায়ন—এক ধরনের ‘অ্যাসিড টেস্ট’। কারণ, এই নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে সরকার পরিচালনার প্রতি জনগণের সন্তুষ্টি, তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা কতটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
দলীয় সূত্র, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মূলত পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে—দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ, তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতীকবিহীন নির্বাচনের বাস্তবতায় কার্যকর কৌশল নির্ধারণ।
প্রতীকবিহীন নির্বাচন: বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনের চরিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের জনসেবার রেকর্ডই ভোটের প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন
ইশতেহার থেকে বাজেট: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে কতদূর বিএনপি সরকার?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রতীক ছাড়া হবে। যখন নির্বাচন হবে, তখন আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।
অন্যদিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় প্রতীক স্থানীয় সমাজে বিভাজন তৈরি করেছিল। এখন সেই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ফলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছি।
রিজভীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, প্রতীকবিহীন নির্বাচনকে বিএনপি শুধু নতুন বাস্তবতা হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিভাজন কমানোর একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছে।

কেন এই নির্বাচন বিএনপির জন্য ‘অ্যাসিড টেস্ট’?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, জাতীয় ইস্যু এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশি প্রভাব ফেলে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, সততা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনসেবা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেন।
বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সরকার গঠনের পর জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে, তৃণমূলে সংগঠন কতটা শক্তিশালী এবং স্থানীয় নেতৃত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য—এসব প্রশ্নের বাস্তব উত্তর মিলবে এই নির্বাচনের ফলাফলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে তা সরকারের প্রতি জনআস্থা এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে। বিপরীতে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ফল এলে তৃণমূলের সমন্বয়, নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
হাতে স্টিয়ারিং, কাঁধে নিজের ব্যাগ, কী বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
এক পদে এক প্রার্থী—ভোট বিভক্তি ঠেকানোর কৌশল
অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একই পদে একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় অনেক এলাকায় ভোট ভাগ হয়ে গেছে। ফলে জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও দলীয়ভাবে সুবিধা হারাতে হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মতামত, সাংগঠনিক প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসমর্থন এবং নির্বাচনে জয়ের সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখে। তাই জয়ের সম্ভাবনাই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
এমপিদের প্রভাব নিয়ে তৃণমূলে আলোচনা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তৃণমূলের একাধিক নেতা মনে করেন, মনোনয়নে রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও জনগ্রহণযোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে অনেক এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের মনোনয়নের দাবিদার মনে করছেন। আবার অনেক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী বর্তমান এমপিদের চেয়েও দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। ফলে শুধু কোনো এমপির মতামতকে প্রাধান্য দিলে তৃণমূলে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সেলিম বলেন, এমপি বা মেয়রের প্রভাব এখনো দেখা না গেলেও নির্বাচন এলে বিষয়টি বোঝা যাবে। গ্রুপিং হলে দলের ক্ষতি হবে। তাই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দলের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর: প্রত্যাশা-প্রাপ্তি ও কূটনৈতিক যাত্রা
বিদ্রোহী প্রার্থী: বড় দুশ্চিন্তা, তবে রয়েছে ভিন্নমত
দলীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা। মনোনয়ন বা সমর্থন না পেলে কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট বিভক্তির আশঙ্কা থাকে। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আগাম আলোচনা, স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ক্ষতির অভিজ্ঞতাও এবার বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাবাচ্ছে।
দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না। তাই নির্বাচনের জন্য অনেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। একাধিক প্রার্থী থাকলেও সমস্যা হবে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। -বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না। তাই নির্বাচনের জন্য অনেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। একাধিক প্রার্থী থাকলেও সমস্যা হবে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
শামসুজ্জামানের মতে, প্রতীকবিহীন নির্বাচনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর সক্রিয়তা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ।
তবে দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই স্থানীয় বাস্তবতা, জনসমর্থন ও জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় এনে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোট বিভক্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন
ঢাকা মহানগর বিএনপি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত, আলোচনায় যারা
অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন / কমিশন না সিলেকশন, সিন্ডিকেট না মেধা—দ্বিধায় বিএনপি
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রস্তুতিও বাড়ছে
বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে বিএনপিকে প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর তুলনামূলক সুসংগঠিত প্রস্তুতি অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
তৃণমূলে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর: বাংলাদেশের অর্জন কী?
বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী নেতারা কি দলে ফিরতে পারবেন?
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের নেতা মো. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, তিনি বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরো জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মানুষের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
ভোলা, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তাদের অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনগ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই দল প্রার্থী নির্ধারণ করবে।
আরও পড়ুন
বিএনপির কাউন্সিলের আগে আলোচনায় যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের পুনর্গঠন
তৃণমূলকে চাঙা করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে বিএনপি
জেলা নেতৃত্ব কী বলছে?
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ জাগো নিউজকে বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে কাজ করলেও দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তার ভাষায়, তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক অবস্থান ভালো। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন, বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দেওয়া, তৃণমূলের অসন্তোষ কমানো, এমপিদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এড়ানো এবং প্রতীকবিহীন নির্বাচনের বাস্তবতায় সাংগঠনিক সমন্বয় বজায় রাখা।
একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রস্তুতি, বিভিন্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের ভোট নয়; এটি হবে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা, বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সে অর্থে সরকার গঠনের পর বিএনপির জন্য এ নির্বাচন সত্যিই একটি ‘অ্যাসিড টেস্ট’, যার ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
কেএইচ/এমএমএআর








