টানা বর্ষণ আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে জেলার উত্তরাঞ্চলের পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী লাখো মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ধেয়ে আসা ঢলের কারণে মুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সকাল ৯টায় পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৯০ মিটার, যা মাত্র তিন ঘণ্টা আগে সকাল ৬টায় ছিল ৯ দশমিক ৬৫ মিটার। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি দুর্বল পয়েন্ট ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক নদীর বাঁধ ও পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক সময় গভীর রাতে হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু, আমনের বীজতলা, মৎস্য ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারও নদীর পানির তীব্রতা দেখে তীরবর্তী মানুষের রাত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
এদিকে সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছি। ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণের কারণে আমাদের নদীগুলোর পানি বাড়ছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শুকনো খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার প্রক্রিয়া চলছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম








