‘মামলার ফাইল ছাড়তে বলছি, ছেড়ে দাও, ফাইলে স্বাক্ষর করে দাও। এই মামলার ফাইল অন্য কেউ পরিচালনা করলে আপত্তি নেই, এখন মামলা ছেড়ে দাও। আমার কথা অনুযাযী মামলা ছাড়তে হবে, মামলা না ছাড়লে তোমার খবর করে ফেলবো আমি। তোমার উকালতি পেশ ছাড়াবো আমি। মানুষ চিনো তুমি! এলাকায় ঢুকা বন্ধ করে দিব।’ জামালপুর জজ কোর্টের আইনজীবী রোকনুজ্জামানকে মুঠোফোনে ঠিক এভাবেই হুমকি দিয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি মো. জমশেদ আলী। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আইনজীবী রোকনুজ্জামান। অভিযুক্ত জমশেদ আলী উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমশেদ কোনো আইনজীবী বা মুহুরি না হয়েও আদালতপাড়ায় দালেরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন।ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ জানান, একটি মামলার আসামির জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে জমশেদ তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করেন এবং অগ্রিম ৮ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দুই দফা আবেদন করেও জামিন করাতে ব্যর্থ হন তিনি। পরে জমশেদের ওপর আস্থা হারিয়ে আইনজীবী রোকনুজ্জামানের শরণাপন্ন হন আবুল কালাম। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রোকনুজ্জামানকে ফোন করে মামলাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন জমশেদ।আইনজীবী রোকনুজ্জামান তার জিডিতে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী ছাড়া নথি অন্য কাউকে দেওয়া সম্ভব নয় জানানোয় জমশেদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি তাকে এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার এবং আইন পেশা থেকে সরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে জমশেদ আলী ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, আইনজীবীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় রাগের মাথায় তিনি এমন কথা বলেছেন।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সরকার বলেন, দলীয় পরিচয়ে কাউকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জমশেদ আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।\