যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঝুঁকিতে পড়েছে। সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আজ সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইসগেটের দক্ষিণ দিকে যমুনা নদীর তীরে উজানের প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে ভাঙনকবলিত স্থানে শ্রমিকেরা জিওব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত ছিলেন। যমুনার প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের গাছ কেটে নদীতে ফেলা হচ্ছে।

এদিকে ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহাদীর হাসান শিবলী বলেন, `কয়েকদিন ধরেই যমুনার তীব্র স্রোতে নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে।'

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। দ্রুত একটি টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন,`স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব অংশ সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।'