ফেনী শহরকে যানজটমুক্ত করতে ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তুলতে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ফেনী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে তা শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক, ফুটপাত এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিস্তৃত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযানকালে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পৌরসভার কর্মীরা ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা বেশ কিছু মালামাল জব্দ করে নিয়ে যান। এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের প্রমাণ পাওয়ায় শহরের ‘ফেনী কুটুম বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন

পাবনায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

এদিকে অভিযান চলাকালে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে ফুটপাত ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জায়গা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণেই শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযান কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে উক্ত কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলেও, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযান শেষে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে সচেতনতা বাড়াতে হবে, অন্যথায় ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখা কঠিন। জনস্বার্থ ও শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

উচ্ছেদ অভিযানে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফেনী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিনসহ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এনএইচআর/জেআইএম