আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন না মেনে শূন্যরেখায় ভারতীয় নির্মাণশ্রমিকদের দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায় নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
গতকাল সোমবার ও আজ দুপুরে দুই দফায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির একটি সূত্র জানায়, বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একতরফা চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮৪৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের একদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকা। অন্যদিকে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার হাড়িকামাত সীমান্ত এলাকা। গতকাল এই সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত শূন্যরেখায় দুপুর আড়াইটায় প্রায় ৫০ গজ এলাকায় একসারি বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্দেশে সিমেন্টের তৈরি খুঁটি স্থাপন করতে থাকে বিএসএফ। ভারতীয় সীমানার ১৫০ গজের শেষ অংশের শূন্যরেখার প্রায় ৩০ গজ ছেড়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতার খুঁটি স্থাপন করছিল ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল। এ সময় বিজিবি বেড়া নির্মাণে বাধা দিলে বেশ কয়েকজন বিএসএফের সদস্য বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের নিয়ে চলে যান।
পরদিন আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আবারও একই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৫-এর ১ নম্বর উপপিলার থেকে ২ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী খেংটি এলাকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় পানিশালা-১ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। এই দিনও বাধা দেয় বিজিবি। বিএসএফ বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণের চেষ্টা চালালে কঠোর অবস্থান নেয় পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল। পরে বেলা সোয়া ১টায় ওই পিলারের কাছে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আলাউদ্দিন ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও ভারতের পানিশালা কোম্পানির কমান্ড্যান্ট ইন্সপেক্টর শচীন রায় ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সভায় অংশ নেন। বৈঠকে বিএসএফ ২০১৭ সালের একটি চুক্তিপত্র দেখিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিজিবিকে বাধা দিতে নিষেধ করে। এ সময় বিজিবি ২০২৪ সালের একটি চিঠি দেখিয়ে বেড়া নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে জানায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা পতাকা বৈঠকে পরবর্তী সময়ে উভয়পক্ষ যৌথ রেকর্ড স্বাক্ষরিত প্রমাণপত্র বা দলিল (জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাসন বা জেআরডি) অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া নির্মাণকাজ বন্ধে একমত হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। ওই সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়ে টহল জোরদার করেছে। বিপরীতে বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে, এক খুদে বার্তায় তিনি জানিয়েছেন—২০ ও ২১ জুলাই সীমান্ত পিলার ৮৪৫-এর ১ ও ২ উপপিলারের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ ও ৫০ মিটার অভ্যন্তরে বিএসএফের পানিশালা-১ ক্যাম্পের সদস্যরা পূর্বে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি সরিয়ে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করতে থাকে। এ সময় বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকে জেআরডি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পিলার স্থাপন না করতে বিএসএফকে নিষেধ করা হয়েছে।








