যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গাফিবাফ। তবে এই চুক্তি হলেও ইরানের আদর্শিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি বা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রবিবার (৫ জুলাই) হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ দারউইশের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। খবর জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজের।
চুক্তিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক তীব্র বিতর্কের জবাবে গালিবাফ এর বাস্তবায়নকে ‘কঠিন কিন্তু সম্ভব’ বলে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কূটনৈতিক পথ ইরানের আদর্শিক নীতিগুলোর মৌলিক পরিবর্তনের কোনো সংকেত দেয় না।
গালিবাফ ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরে যুক্তি দেন যে, আঞ্চলিক আধাসামরিক বাহিনীগুলোর অর্জিত বাস্তব সাফল্যগুলোকে ধরে রাখতে অবশ্যই রাজনৈতিক আলোচনাকে কাজে লাগাতে হবে।
গাফিবাফ বলেন, “কূটনীতি এবং আলোচনাকে সামরিক জটিলতাগুলোর সমাধান করতে এবং যোদ্ধাদের অর্জনগুলোকে সুসংহত করতে সক্ষম হতে হবে।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, একটি দেশ যখন কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি বজায় রাখে, কেবল তখনই এই উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব।
বৈঠকে ইরানের স্পিকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া গোপন দলিলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, তেহরান সফলভাবে চুক্তিতে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করেছে, যা আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর অখণ্ডতার গ্যারান্টি দেয়। একই সঙ্গে এটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ থাকা ইরানের মিত্রদের ওপর সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেয়।
চুক্তিটি সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হওয়া সত্ত্বেও তেহরানের কট্টরপন্থি দলগুলোকে শান্ত করতে গালিবাফ বলেন, “আমাদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো শান্তি নেই, এবং আমরা কখনই ‘ইসরায়েল’কে স্বীকৃতি দেব না।”
বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে তিনি তীব্র অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি ‘কৌশলগত প্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রতিবেশী আরব ও ইসলামিক সরকারগুলোর উদ্দেশ্যে গালিবাফ বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা সম্পূর্ণ নিরর্থক। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ বা কৌশলগত সহযোগিতা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি সবাইকে একটি স্থানীয় ও আঞ্চলিক ঐকমত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ দারউইশ বলেন, হামাস তাদের সংগ্রামকে এমন একটি লড়াই হিসেবে দেখে যেখানে ‘হয় বিজয় অথবা শাহাদাত’ রয়েছে; সেখানে পরাজয় বলে কোনো শব্দ নেই।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরাজিত করতে সফল হয়নি এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানকে উৎখাত করার যে উদ্দেশ্য তাদের ছিল, তাও ব্যর্থ হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে ‘প্রতিরোধের অক্ষের জন্য একটি বড় বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করে দারউইশ বলেন, চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের জন্য একটি অর্জন এবং ওয়াশিংটনের জন্য একটি ধাক্কা। তিনি বিশেষ করে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পর্কিত ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে ইরান কূটনৈতিক ভারসাম্যও ইসলামিক উম্মাহর পক্ষে নিয়ে যেতে সফল হয়েছে।








