দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের পথ খুলেছে। অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এ রায়ের পর এমন তথ্য জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের ফলে সরকার যে আইন করেছিল সেটি বহাল হলো। অর্থাৎ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্থান থাকবে ওপরে। আর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের স্থান থাকবে নিচে। আইনি জটিলতার কারণে সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। এই রায়ের ফলে সেই জটিলতা নিরসন হবে।
২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় সরকার অধিগ্রহণ করে। পরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ৯ (১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিধির অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন আপিল বিভাগ।
আপিলকারী পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।








