ষাট বছর বয়সী নুরু মিয়া কাজী। ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। কোথায় গেছেন, কেমন আছেন তিনি? এই চিন্তায় চিন্তায় তার বাবা ও মা-ও মারা যান। ৪৪ বছর পর হঠাৎ বাড়ি এসে নুরু মিয়া চমকে দিলেন ভাই-বোনসহ স্বজনদের। তার নিজ জন্মভূমি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ি। বাবা আলী আহাম্মদ ও মা মারুফা খাতুন। নুরু মিয়ার প্রত্যাবর্তনে ভাই-বোন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। তিনি তিন মাসের জন্য রায়পুরে এসেছেন। এরপর পাকিস্তানে পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার নুরু মিয়া জানান, কোনো কাজ করতে না পেরে বাবার বকুনি খেয়ে ১৪ বছর বয়সে গ্রাম থেকে ভারতের কলকাতায় যান। লেখাপড়াও তেমন জানতেন না। পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে পাড়ি দেন। তবে, সেখানে থিতু না হয়ে যান ইরানে। সেখানে তিন বছর কাটিয়ে পাড়ি জমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সেখান থেকে ৩ মাস পর আবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিরে আসেন। সেখানে ছিলেন ৩ বছর। পাসপোর্ট না থাকায় দেশটির জেলে ৮ মাস কারাভোগ করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ট্রেনে করে ফের পাকিস্তানে চলে আসেন এবং করাচিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরে সেখানেই বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী জমিলা খাতুন। তার ঘরে দুই ছেলে ইয়াসিন ও রহিম এবং এক মেয়ে ইকরা। দ্বিতীয় স্ত্রী মোস্তফা খাতুন। সেই সংসারে তিন ছেলে নুরনবি, আবু বক্কর ও আবদুল শুক্কুর এবং এক মেয়ে কুলসুমা বেগম। নুরু মিয়া পাকিস্তানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে তিনি দুই স্ত্রী ও সাত ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালো আছেন বলে জানান।
নিরুদ্দেশের আগে রায়পুরে থাকা অবস্থায়ও নুরু মিয়া বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রী ও সন্তানরা কোথায় আছেন, তা তিনি এখন যানেন না।
নুরু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর জন্মস্থানে ফিরে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। ভাইবোনকে কাছে পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করছেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই পুনর্মিলন শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের কাছেই একটি আবেগঘন ও স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।
ছোট ভাই দিনমজুর নিজাম উদ্দিন বলেন, ভাইকে পেয়ে আমরা মহাখুশি। তবে মা ও বাবা বেঁচে থাকলে তারা আরও খুশি হতেন। নিজাম বলেন, কিশোর বয়সে বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন নুরু মিয়া। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু পাইনি। আমরা ধরে নিয়েছি তিনি হয়তো মারা গেছেন। ৪৪ বছর পর তাকে কাছে পেয়ে আমরা খুব আদর-যত্নের কমতি করছি না। তিন মাস পর জন্মভূমির মায়া কাটিয়ে নুরু মিয়া আবার করাচিতে চলে যাবেন।








