ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের লাইনচ্যুত চারটি বগি উদ্ধারের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেলপথটি সচল হয়।
ট্রেনের লাইনচ্যুতির কারণ অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনে প্রবেশের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী। দুর্ঘটনার ১ ঘণ্টার মধ্যেই জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন আশপাশের তিনটি স্টেশনে আটকে পড়ে।
ভোগান্তি কমাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুপুর ২টার দিকে বিকল্প লাইনে এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব পথ ব্যবহার করে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে উদ্ধার কাজ শেষ হলে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে স্বাভাবিক রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, প্রায় ৭ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
ঘনঘন ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণ হিসেবে তিনি জানান, বর্তমান রেললাইনগুলো ব্রিটিশ আমলে তৈরি এবং দীর্ঘদিন বড় কোনো মেরামত কাজ না হওয়ায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। তবে সরকার রেলপথ মেরামতের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমে আসবে।
এদিকে বগি লাইনচ্যুতের কারণ জানতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মাঝে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে কাওরাইদ স্টেশনে তিস্তা এক্সপ্রেস আটকে পড়ে যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ময়মনসিংহ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন ২০ জোড়া ট্রেনে প্রায় ৮ হাজার মানুষ নিরাপদ যাতায়াত করেন। কিন্তু ইদানীং ঘনঘন ট্রেন দুর্ঘটনার ফলে এই অঞ্চলের যাত্রীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।







