ফুটবল বিশ্বের নজর ২০২৬ বিশ্বকাপে। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের এবারের আসর গড়িয়েছে সেমিফাইনালে। সর্বশেষ কয়েকটি বিশ্বকাপে দেখা গেছে নতুন দু-একটি দল সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখিয়েছে। তখন আলোচনা হতো; নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে কি বিশ্বকাপ?
২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আলোচনা শেষ চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে সুইজারল্যান্ডের পরাজয়ের পর। এবারের সেমিফাইনাল যেন ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে। ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে কঠিন সেমিফাইনাল। চারটি দলই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এমন ঘটনা গত ৩৬ বছরে আর দেখা যায়নি।
১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার এমন বিরল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সেমিফাইনালে ছিল ব্রাজিল, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি ও উরুগুয়ে; সবাই আগের চ্যাম্পিয়ন। সেই আসরে ব্রাজিল জিতেছিল ট্রফি।
১৯৯০ সালে ইতালিতে আবারও একই ঘটনা। ইতালি, পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড; সেমিফাইনালে চার চ্যাম্পিয়ন দল। পশ্চিম জার্মানি সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর আর কখনো এত শক্তিশালী সেমিফাইনাল দেখা যায়নি।
২০২৬-এ ফিরে এসেছে সেই ঐতিহাসিক অনুভূতি। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে রীতিমতো জম্পেশ লড়াই।
ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচটি হবে টেকনিক্যাল মাস্টারক্লাস। একদিকে এমবাপের গতি ও অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে স্পেনের তিকি-তাকা ও যুবশক্তি। অন্য সেমিতে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা। এটি তো ক্লাসিক মহারণ।
মেসির উত্তরসুরিরা আর্জেন্টিনাকে আরেকবার ফাইনালে তুলতে চাইবেন, আর বেলিংহাম-কেইনের ইংল্যান্ড চাইবে ১৯৬৬-এর পর আবার ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।
সেমিফাইনালগুলো শুধু কঠিন নয়, ঐতিহাসিকও। চার চ্যাম্পিয়নের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সোনালি সুযোগ। আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ ট্রফি ধরে রেখে ব্রাজিল ও ইতালির পাশে যাওয়ার। বাকি তিন দলের সুযোগ ট্রফি উদ্ধারের।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা রাত জেগে বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন। আর্জেন্টিনা টিকে থাকায় বাংলাদেশের দর্শকদের বড় একটা অংশের বিশ্বকাপও টিকে থাকলো। দর্শকদের জন্য বাড়তি রসদ যোগ করেছে চার চ্যাম্পিয়নের সেমিফাইনাল। ৩৬ বছর পর আবার ফিরে এসেছে সেই সোনালি সময়। ফুটবলের রোমাঞ্চ এখন চরমে। যে রোমাঞ্চ থাকবে ফাইনাল পর্যন্ত। থাকতেই হবে। দুই চ্যাম্পিয়নের ফাইনাল বলে কথা।
আরআই/আইএন








