বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। বিদায় নিলেও দেশের মানুষের ভালোবাসাকে একটুও কমাতে পারেনি। বরং দেশে ফেরার পর নরওয়ে জাতীয় দলকে দেওয়া হয়েছে বীরের সংবর্ধনা। রাজধানী অসলোজুড়ে দিনভর চলেছে উৎসবের আমেজ।

শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর দলটি দেশে ফিরে প্রথমেই যায় অসলোর রাজপ্রাসাদে। গার্ডারমোয়েন বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাজপ্রাসাদে পৌঁছে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের স্বাগত জানান নরওয়ের রাজা হারাল্ড, যুবরাজ হাকন এবং রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড জানান, ৮৯ বছর বয়সী রাজা হারাল্ড তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পুরো দেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক পোশাকের কঠোর বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে কেউ শর্টস, কেউ আবার একেবারে স্যান্ডেল পরেই উপস্থিত হন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ডিফেন্ডার জুলিয়ান রিয়ারসনকে দেখা যায় ফ্লিপ-ফ্লপ পরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।

রাজপ্রাসাদ থেকে ইউনিভার্সিটি স্কয়ার মাত্র ৪৫০ মিটার পথ। কিন্তু এই ছোট্ট পথজুড়ে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৮৮ হাজার সমর্থক। সবাই একসঙ্গে জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন। ক্যাসেল স্কয়ারে খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা মিলে নরওয়ের বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘রোয়িং চ্যান্ট’ বা নৌকা বাইচের উদযাপনও করেন।

এই উদযাপনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল যুবরাজ হাকনের অংশগ্রহণ। তিনি নিজেই ড্রামের সামনে দাঁড়িয়ে ছন্দ তোলেন। পরে মজার ছলে বলেন, ‘আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, তবে আমরা একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম। খেলোয়াড়রা দারুণভাবে বৈঠা চালিয়েছে।’ তিনি আরও স্বীকার করেন, অনুষ্ঠানের আগে কিছুটা অনুশীলনও করেছিলেন।

তবে অনুষ্ঠানে পুরো সময় থাকতে পারেননি দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা আরলিং হালান্ড ও সান্ডার বের্গে। ছুটি কাটাতে সিসিলির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই তাদের চলে যেতে হয়। জানা গেছে, প্রথমদিকে দুজনই দেশে ফিরতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে তাদের রাজি করানো হয়। কিন্তু মিয়ামি থেকে দলের ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছানোয় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই ইতালির উদ্দেশে রওনা দিতে হয়েছে।

jagonews24

দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় ছিলেন হালান্ড। ইনস্টাগ্রামে একটি রাকুনের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘ও আমার পিছু পিছু বাড়ি পর্যন্ত এসেছে।’ ছবিতে প্রাণীটির হাতে একটি কাঁচের বোতল দেখা যায়। মজার এই পোস্ট দ্রুতই ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজপ্রাসাদের অনুষ্ঠান শেষে নরওয়ে দল একটি খোলা ছাদওয়ালা বাসে চড়ে সিটি হল স্কয়ারের উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে রাস্তাজুড়ে অসংখ্য সমর্থকের ভিড়ে বাসটি খুব ধীরগতিতে এগোয়। পথে পথে হাজারো মানুষ করতালি ও স্লোগানে প্রিয় ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান।

গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড দিনটির অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের ছোট্ট একটি অংশ হতে পারা এমন একটি স্মৃতি, যা সারা জীবন মনে থাকবে।’

বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা না গেলেও, দেশের মানুষের ভালোবাসা ও অভূতপূর্ব সংবর্ধনা নরওয়ে দলের কাছে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখল। প্রায় ৯০ হাজার সমর্থকের উপস্থিতি যেন প্রমাণ করে দিলো শিরোপা না জিতেও কখনো কখনো একটি দল পুরো জাতির হৃদয় জয় করে নিতে পারে।

আরআর/আইএন