বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ছয়টি গোল করে মিডফিল্ডারদের ভেতর সবার থেকে এগিয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। এমনকি গোল্ডেন বুটের দৌঁড়েও তিনি রয়েছে যৌথভাবে তিন নম্বরে। দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বিশ্বকাপে জ্বলে ওঠায় বেশ খুশি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জন টেরি। তার খেলা দেখে অনেকটাই জিদানের কথাও মনে পড়ে সাবেক এই চেলসি তারকার।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জন টেরির বিশ্বাস, ২০২৬ বিশ্বকাপে জুড বেলিংহ্যাম এখন সেই ভূমিকাই পালন করছেন, যেটি ১৯৯৮ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে করেছিলেন জিনেদিন জিদান। শুধু তাই নয়, বেলিংহ্যামকে তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলেও অভিহিত করেছেন।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেলিংহ্যামের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে আসছেন টেরি। তার মতে, ইংল্যান্ডের পুরো দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন মূলত রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার কাঁধেই।
টেরি বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমি বলেছিলাম, বেলিংহ্যাম আমাকে জিদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই মুহূর্তে সে পুরো দলটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে সে বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়।’
তবে টেরির প্রশংসা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, বেলিংহ্যামের ব্যক্তিত্বও একজন বড় নেতার মতো, ‘মাঠের বাইরে তার কথা শুনলেও বোঝা যায়, তার মধ্যে দারুণ শান্ত স্বভাব আছে। চাপের মুহূর্তেও সে খুব পরিণতভাবে কথা বলে। একজন নেতার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ গুণ।’
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের মতে, বেলিংহ্যাম শুধু প্রতিভাবান ফুটবলার নন, বরং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো ক্ষমতাও তার আছে। বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়া, সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তাকে জিদানের সঙ্গে তুলনা করার অন্যতম কারণ।
টেরি মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছিলেন জিদান। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপেও তিনি ফ্রান্সকে আবার ফাইনালে তুলেছিলেন। যদিও ইতালির বিপক্ষে সেই ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় অতিরিক্ত সময়ে লাল কার্ড দেখে বিদায় নিতে হয়েছিল তাকে।
টেরির দৃষ্টিতে, বেলিংহ্যামের মধ্যেও সেই ধরনের নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। তাই তার বিশ্বাস, এই মিডফিল্ডারকে ঘিরেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করছে।
আরআর/আইএন








