বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। সেই ম্যাচের আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। বিদায়ের পর চোখের জলেই শেষ হয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জয়ের তার শেষ স্বপ্ন।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোকে নিয়ে যেমন নানা আলোচনা হয়েছে, তেমনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তার সতীর্থরা। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেন, দলের কিছু খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে ভালো খেলেননি কিংবা রোনালদোকে যথেষ্ট পাস দেননি।

এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গ্রুপ পর্বে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পরও পর্তুগালের কয়েকজন ফুটবলারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে রোনালদোর ভক্তরা দাবি করেছিলেন, তাকে আরও বেশি বল দিতে হবে। এমনকি রোনালদোর বোনও সে সময় দলের সমালোচনা করেছিলেন।

স্পেনের বিপক্ষে বিদায়ের পর সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের অসংখ্য মন্তব্য দেখা যায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যম পর্তুগাল দলের খেলোয়াড়দের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে কে কাকে অনুসরণ করেন, সেই তথ্য প্রকাশ করে। উদ্দেশ্য ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক থেকে দলে কোনো বিভক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা।

সেখানে একটি বিষয় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেখা গেছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইনস্টাগ্রামে জাতীয় দলের মাত্র চার সতীর্থকে অনুসরণ করেন। তারা হলেন ডিয়োগো দালোত, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, হোয়াও ক্যানসেলো এবং রাফায়েল লেয়াও।

এর মধ্যে দালোত ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের সঙ্গে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এবং হোয়াও ক্যানসেলোর সঙ্গে জুভেন্টাসে খেলেছেন। ফলে ক্লাব-সতীর্থ থাকার কারণেই এই সংযোগ তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

আরেকটি তথ্যও নজর কেড়েছে। ব্রুনো ফার্নান্দেজই একমাত্র পর্তুগিজ ফুটবলার, যিনি জাতীয় দলের সব সতীর্থকে অনুসরণ করেন এবং তিনিও সবার কাছ থেকে পাল্টা অনুসরণ (ফলো-ব্যাক) পেয়েছেন।

অন্যদিকে, রেনাতো ভেইগা, মাতেউস নুনেস ও নুনো মেন্দেস রোনালদোকে অনুসরণ করেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। একাংশের সমর্থক এটিকে রোনালদোর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় বলে উল্লেখ করলেও, সমালোচকেরা দাবি করেন এটি দলের ভেতরের দূরত্ব বা বিভক্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

তবে এ পর্যন্ত পর্তুগাল দলের কোনো খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ বা ফুটবল ফেডারেশন এই ইনস্টাগ্রাম অনুসরণের বিষয়টিকে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে যত আলোচনা হচ্ছে, তার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

আরআর/আইএন