কার্লো আনচেলত্তির খেলার কাছেই মার খেয়ে গেল গোটা জাপান! না, আপনি ঠিকই পড়ছেন। ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তিই খেলেছেন। বুদ্ধির খেলা খেলেছেন। ঠিক যেভাবে তিনি, চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ আড়াই দশক বুদ্ধির খেলা খেলে এসেছিলেন আর কি! তাতেই ‘জগো বনিত’র দেশ ব্রাজিল এবারের বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স জাপানকে হারিয়ে উঠে গেল শেষ ১৬-তে। 

অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির করা জয়সূচক গোলে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সোমবার জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে কাইশু সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোলে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল জাপান। তবে ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে জাপানের হৃদয় ভেঙে দেন মার্টিনেল্লি। তার এই গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কঠিন পরীক্ষায় উতরে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।

এটি ছিল বিশ্বকাপে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের জয়গুলোর মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে দেরিতে পাওয়া গোল। কাইশু প্রথমার্ধে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এড়িয়েছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। এরপরই তিনি মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান এবং নিচু শটে গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে জাপানকে এগিয়ে দেন।

বিরতির সময়ই কৌশলে পরিবর্তন নিয়ে আসেন আনচেলত্তি। জাপানিদের উচ্চতার সমস্যাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রচুর এরিয়াল ক্রসের পন্থা বেছে নেন এবং তাতেই সফলতা আসে। গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে সমতা ফেরান কাসেমিরো। এর কয়েক মিনিট আগেই অবশ্য কাসেমিরোর আরেকটি কাছ থেকে নেওয়া হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন জাপানের ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চার গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৫৮তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বাম দিক থেকে নেওয়া তার শট জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির স্পর্শ লেগে দূরের পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পায়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তবে শেষ হাসি হাসে ব্রাজিলই। ব্রুনো গিমারাইসের পাস ধরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দুর্দান্ত কার্লিং শটে সুজুকিকে পরাস্ত করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। যেভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটগুলোতে আনচেলত্তি শেষ মুহুর্তের কৌশলে রিয়াল মাদ্রিদকে ম্যাচ জিতার একটা উপায় বের করে ফেলেছিল, ঠিক সেটারই একটা রেপ্লিকা দেখা গেল মার্তিনেল্লির গোলটাতে। ব্রাজিলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছিল তারা নিশ্চিত; ম্যাচটা তারাই জিতবে। শেষ পর্যন্ত হলোও তাই!