সিরাজগঞ্জে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটা ও তার মা-বাবার সমাধি আজও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহান নেতার স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মওলানার ভক্ত-অনুরাগীসহ দেশি-বিদেশি পর্যটক মাঝেমধ্যেই আসেন সয়াধানগড়া গ্রামে। তারা কিছুই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। এই অবস্থায় মওলানার স্মৃতি সংরক্ষণে একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি উঠেছে।

অরক্ষিত ভাসানীর জন্মভিটা : সিরাজগঞ্জের সয়াধানগড়া গ্রামে ভাসানীর নিজের কোনো সমাধি নেই। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার সমাধি অবস্থিত। সিরাজগঞ্জে তার বাবা হাজী শারাফত আলী খান ও মা মজিরন নেসা বিবির কবর রয়েছে। ১৭ ডেসিমাল (এক কাঠার বেশি) জমির ওপর ভিটা রয়েছে। দুই ডেসিমাল জমির ওপরে আছে টিনের একটি ঘর। ওই ঘরেই চলে হাজী শরাফত আলী খান ও মজিরন নেসা বিবির নামে একটি পাঠশালা ও একটি পাঠাগারের কার্যক্রম। বাকি জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পৈতৃক ভিটার চারপাশ অরক্ষিত। কোনো বাউন্ডারি দেওয়াল নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, এই স্থানটিতে মওলানার নামে স্মৃতিজাদুঘর করা হোক। জানা গেল, স্থানীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাঠাগার ও পাঠশালা চালু হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ভাসানীর মা-বাবার কবর সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয় ভাসানী যুব উন্নয়ন পরিষদ। ২০২৪ সালে ভাসানী স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি ও ভাসানী পরিষদের উদ্যোগে ওই বিদ্যালয় ও পাঠাগার নির্মাণ করা হয়। তা এখন পরিচালনায় রয়েছে সুধা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ভাসানীর স্মৃতি ধরে রাখতে সিরাজগঞ্জ শহরে নির্মিত হয়েছে পৌর ভাসানী মিলনায়তন ও মওলানা ভাসানী কলেজ। তার নামে তৈরি হয়েছে ভাসানী সড়ক। এলাকাবাসী ও ভক্ত-গবেষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, টাঙ্গাইলের সন্তোষের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জেও সরকারের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ মওলানা ভাসানী স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হোক।

ওই পাঠশালার সদস্য সচিব আব্দুল আলীম জানান, মওলানা ভাসানীর মতো এক মহান নেতার জন্মভূমি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তার স্মৃতি রক্ষার্থে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ভাসানী জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ জরুরি। তিনি জানান, আজও ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা সিরাজগঞ্জে এসে কিছুই দেখতে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যান।