ঢাকার মূল কেন্দ্রের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে এবং সুপরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে দেশের আবাসন খাতে এখন বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমান সময়ে স্যাটেলাইট সিটি ও শহরতলি এলাকায় প্লটের ব্যবসা ও জমি বিনিয়োগের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাত হিসেবে ক্রেতাদের কদর বাড়ছে বলে জানান আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।
যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব রূপান্তর শহরতলির জমির ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল এবং পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের ফলে মূল ঢাকা থেকে সাভার, গাজীপুর কিংবা কেরানীগঞ্জের দূরত্ব এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। উন্নত যোগাযোগ ও যাতায়াতসুবিধার কারণে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বড় আবাসন কোম্পানিগুলো এখন ঢাকার বাইরে পরিবেশবান্ধব স্থায়ী আবাসনে বিনিয়োগ করছে।
এলাকাভিত্তিক জমির গড় বাজারদর
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে ঢাকার চারপাশের স্যাটেলাইট সিটি ও উপশহরগুলোতে জমির দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এলাকাভিত্তিক জমির গড় দাম প্রকল্প ও প্লটভেদে ভিন্ন। এই দাম কোম্পানির সঙ্গে ক্রেতার আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। তবে এলাকাভেদে সম্ভব্য ধারণা—
পূর্বাচল: রাজউকের মূল প্রকল্প ও এর আশপাশের বেসরকারি প্রকল্পভেদে প্রতি কাঠা জমির দাম বর্তমানে ২০ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ৩ ও ৫ কাঠার রেডি প্লটের চাহিদা এখানে সবচেয়ে বেশি।
কেরানীগঞ্জ: পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রভাবে এই এলাকার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। এখানে প্রতি কাঠা জমির দাম ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
সাভার ও গাজীপুর: মেট্রোরেল এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সহজ সংযোগের ফলে সাভার ও গাজীপুর অঞ্চলে প্রতি কাঠা জমির দাম দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।
সরকারি নীতি ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ
সরকারের নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং উপশহর বা স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি নীতি এই খাতের মূল চালিকা শক্তি। পাশাপাশি অনলাইন ভূমি নামজারি (মিউটেশন) ও ডিজিটাল নিবন্ধনব্যবস্থার কারণে জমি কেনাবেচায় স্বচ্ছতা এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।








