বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাবির বাংলা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। ৫ জুলাই দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কবি-লেখকদের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকাবহ বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়েন নেটিজেনরা।
সরকার আমিন লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর আবুল কাসেম ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ছিলেন আমার শিক্ষক। খুব কাছ থেকে একজন ভালো মানুষকে দেখেছি।’
শামস সাঈদ লিখেছেন, ‘অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার আর নাই। তাঁর মৃত্যুতে আমরা হারালাম একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক ও মুক্তবুদ্ধির চিন্তককে। তিনি সারাজীবন জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদ, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তিনি শুধু সাহিত্যকে বিশ্লেষণ করেনি, সমাজ, ইতিহাস ও রাষ্ট্রভাবনাকেও গভীরভাবে অনুধাবনের পথ দেখিয়েছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রেরণা ছিলেন, তেমনি একজন চিন্তাবিদ হিসেবে রেখে গেছেন অমূল্য বৌদ্ধিক উত্তরাধিকার।’
আরও পড়ুন
ওসমান হাদির জন্মদিন কবে, জানালেন স্ত্রী
তিনি লিখেছেন, ‘তাঁর প্রয়াণে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারালো। তাঁর কর্ম, চিন্তা ও লেখা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলায় আলোর দিশা হয়ে থাকবে। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। শ্রদ্ধাঞ্জলি, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। আপনার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও চিন্তার আলো আমাদের পথ দেখিয়ে যাবে।’
গিরীশ গৈরিক লিখেছেন, ‘বিদায় স্যার আবুল কাসেম ফজলুল হক। এত স্মৃতি এত কথা কখনো ভুলবার নয়! কত সাক্ষাৎকার কত অনুষ্ঠান। আমার প্রথম বই উদ্বোধনের প্রধান অতিথি থেকে শুরু করে কতকিছু এখন জীবন্ত হয়ে উঠছে।’
রাব্বি হোসাইন লিখেছেন, ‘মারা গেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার। আমি তখন পত্রিকার সাংবাদিক। স্যারের বাসায় গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ আনতে। স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, লেখক, গবেষক, ঐতিহাসিক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার রচনা স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। প্রগতিপ্রয়াসী মন নিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।’
এসইউ








