লক্ষ্মীপুরে জজ আদালতের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মনোয়ার হোসেন নামে এক যুবক বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এমন ঘটনা নজরে আসলে ওই যুবককে নোটিশের মাধ্যমে তলব করেছে আইনজীবী সমিতি।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে প্রতারণাকারী যুবক মনোয়ার নিজেই আইনজীবী সমিতির তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার তাকে নোটিশ দিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) তাকে তলব করেছেন।

অভিযুক্ত মনোয়ার সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চর রমনী গ্রামের মোহন ভূঁইয়ার ছেলে।

মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী ছিলেন। এখন তিনি শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে অনুশীলন করছেন। এ বিষয়ে আর কিছু না বললেও তিনি জানান, সোমবার আইনজীবী সমিতিতে উপস্থিত হয়েই তিনি নোটিশের জবাব দিবেন।

এদিকে মনোয়ারের ভিজিটিং কার্ডে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়েছেন বিএ (স্নাতক), এমএ (এলএলবি)। পদবিতে উল্লেখ করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। ঠিকানা উল্লেখ করেন আইনজীবী সমিতি ভবনের ৪র্থ তলার ৪১৩ নম্বর কক্ষ।

মনোয়ারকে দেওয়া নোটিশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার উল্লেখ করেন, মনোয়ারের আইনজীবী সহকারী কার্ড নং-৩৮৬। মনোয়ার জজ কোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে চেম্বার দিয়ে এবং আদালত চত্ত্বরে অবস্থান করে আইনজীবী না হওয়া স্বত্বেও নিজেকে আইনজীবী পরিচয়ে বিধি বহির্ভূত ভাবে ল' চেম্বার দিয়ে সাইনবোর্ড ও ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে বিচার প্রার্থী নিরীহ জনগণকে প্রতারণার খপ্পরে ফেলে হয়রানি করছেন।

ঘটনাটি সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দৃষ্টিগোচর হয় যে, মনোয়ার সভাপতির বিনা অনুমতিতে তার চেম্বার নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে দাঁড়িপাল্লা লোগো দিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে আইনি সেবা নিতে আগ্রহী নিরীহ জনগণকে হয়রানি করছেন।

এটি লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র পরিপন্থি, ধৃষ্টতা ও জঘন্যতম অপরাধ। এ কর্মকাণ্ডের জন্য কেন আপনার (মনোয়ার) বিরুদ্ধে আইনজীবী সহকারীর কার্ড নং-৩৮৬ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে না, এই মর্মে আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতির অফিস চেম্বারে উপস্থিত হয়ে উপযুক্ত লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, ৪১৩ নম্বর কক্ষটি আইনজীবী সমিতির সভাপতির ব্যক্তিগত চেম্বার। ওই চেম্বারের ঠিকানা দিয়ে মনোয়ার নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আসছেন। তবে তিনি কোনো আইনজীবীর সহকারী ছিলেন তা জানা যায়নি।

কাজল কায়েস/এসজেডএইচ/এএসএম