বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে প্রতিপক্ষ শুধু স্বাগতিক মেক্সিকো নয়। ‘থ্রি লায়ন্স’দের লড়তে হবে আরও দুটি অদৃশ্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে; ইতিহাস এবং আজতেকার পাতলা বাতাসের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশ বহু দলকেই অতীতে ভুগিয়েছে। সেই কারণেই ম্যাচের আগেই ইংল্যান্ড শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অস্বাভাবিক বিষয়। তা হচ্ছে সিলডেনাফিল বা ভায়াগ্রা!

তবে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝার সুযোগ নেই। এটি কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ নয়, কিংবা বিশেষ অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করার বিষয়ও নয়। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা WADA-এর নিষিদ্ধ তালিকায় নেই সিলডেনাফিল। উচ্চতায় খেলার সময় শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে কিছুটা সহায়তা করতে পারে, এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল টিম খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বিকল্প হিসেবে রেখেছে। যদিও পুরো দল এটি ব্যবহার করবে এমন কোনো নিশ্চয়তা বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

কিন্তু আজতেকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়তো ওষুধে কাটবে না। কারণ এই স্টেডিয়ামের নাম শুনলেই ইংল্যান্ড সমর্থকদের মনে ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ।

সেই কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর মাত্র কয়েক মিনিট পরই পাঁচজনকে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। একই ম্যাচে ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সবচেয়ে সুন্দর দুই গোলের সাক্ষী হয়েছিল আজতেকা। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও শুকায়নি।

এবার আবারও সেই একই স্টেডিয়ামে নকআউট ম্যাচ খেলতে ফিরছে থ্রি লায়ন্সরা। তবে এবারের প্রতিপক্ষও কম ভয়ংকর নয়, স্বাগতিক মেক্সিকো। ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে শেষ ষোলোয় ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে এসেছে তারা। টানা ছয় জয়ে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আজতেকা স্টেডিয়ামে খেলা ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মেক্সিকো জয়ী হয়েছে ৭০টি ম্যাচে, ড্র হয়েছে ১৭টি এবং তারা হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচে।

আজতেকার গ্যালারিতে কয়েক হাজার সমর্থকের গর্জন, বিখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’, আর পরিচিত পরিবেশ, সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের সুবিধা অনেক।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে দলকে বাঁচানো এই স্ট্রাইকারই আবারও ইংলিশদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজতেকার ইতিহাস, উচ্চতার চাপ আর স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল সমর্থনের মাঝেও কি সেই একই প্রভাব রাখতে পারবেন কেইন?

হয়তো এই ম্যাচের লড়াই শুধু ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকোর নয়। এটি এক অর্থে ইংল্যান্ড বনাম আজতেকারও। ৩৯ বছর আগে যে মাঠ তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল, সেই মাঠেই এবার নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ এসেছে থ্রি লায়ন্সদের সামনে। শ্বাস-প্রশ্বাস বা দমের সমস্যায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান পাশে থাকতে পারে, কিন্তু ম্যারাডোনার সেই দুঃস্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারবে কি ইংল্যান্ড? উত্তর মিলবে ৯০ মিনিটের লড়াইয়েই।