আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ওদের দিনটি ছিল শনিবার (৪ জুলাই)। প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই গরম ঠেলে ওরা উপস্থিত। ওদের চোখে অনেক স্বপ্ন। প্রাণোচ্ছ্বল এসব তরুণ-তরুণীদের চোখে চোখে নীল আকাশের স্বপ্ন।

ঠিক সকাল আটটা ত্রিশ মিনিট। ততক্ষণে সবার গাঁয়ে নতুন নাম ও নম্বর সম্বলিত জার্সি। সবার উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কিছুক্ষণ পরই শুরু হবে জেএমসি স্পোর্টস কার্নিভাল ১.০। কেউ ব্যস্ত প্রোগ্রাম স্থল সাজানো নিয়ে। কেউ ব্যস্ত অতিথিদের বরণ করতে। কেউ ব্যস্ত খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহে।

চলছে ফুটবল ম্যাচ

সবাই ছুটে চললেন মাঠে সকাল নয়টা। বাঁশিতে ফুঁ দিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ম্যাম। এ সময় সবাই ছুটে চললেন গ্রিনের সবুজ মাঠে। মাঠটির চারপাশ সবুজে ঘেরা। সারি সারি গাছের সঙ্গে হাতছানি দেয় সবুজ মাঠ। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবনের এক পাশে রয়েছে শহীদ মিনার, ওপেন স্পেস এবং অদূরে একাডেমিক ভবন। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে জায়গাজুড়ে রয়েছে নানান প্রজাতির গাছ। চারপাশের এমন প্রকৃতি, ক্যাম্পাসের যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মেলে সবুজের।

পিলোপাসিং দিয়ে শুরু সকাল দশটা। শুরু হলো ‘গার্লস স্পোর্টস পিলোপাসিং’। গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের মেয়েদের অংশগ্রহণে ইভেন্টটি জমজমাট হয়ে উঠলো।

বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়

আত্মবিশ্বাস এবং টিমওয়ার্ক ‘গার্লস স্পোর্টস পিলোপাসিং’ এর পর শুরু হয় অতিথিদের আলোচনা। ‘জেএমসি স্পোর্টস কার্নিভাল ১.০’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, “জেএমসি ডিপার্টমেন্ট যে সুন্দর আয়োজন করেছে, আয়োজনটি সবাইকে আনন্দ দেবে এবং শিক্ষার্থীরা নিজের মানসিকতাকে আরো বিকশিত করবে, আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

তিনি আরো বলেন, “খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, দৃঢতা, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব, পূর্ণ টিম স্পিরিট (Team Spirit) বিকশিত হয়। এজন্য খেলাধুলা বিকল্প নেই।” তিনি এই আয়োজনের সফলতা কামনা করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

অতিথি ছিলেন যারা দিনব্যাপী এই আয়োজনে অতিথি ছিলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ক্যাপ্টেন (নেভি) (অব.) শেখ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. হাবীব মোহাম্মদ আলী, বিভাগের প্রাক্তন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শাহ নিস্তার জাহান কবীর, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন

আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক ও জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের মডারেটর জান্নাতুল ফেরদৌস মীম, প্রভাষক ফারজানা ইয়াসমীন ও নাজমুন্নাহার উর্মি, জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির।

ফুটবল ম্যাচ সকাল সাড়ে ১১টা। সবাই প্রস্তুত। মাঠে রেফারি বাঁশি ফুঁ দিলেন। ওদিকে দুটি দল ‘হেডলাইনস হিরোস’ এবং ‘দ্য রিপোর্টার্স’ এর খেলোয়াড়েরা মাঠে নামলেন। দুই দলে ১১ জন করে অংশ নিচ্ছেন। খেলা শুরু হলো। প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল হয়নি। এরপর অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। অবশেষে ৩-২ গোলে জয়ী হয় হেডলাইস হিরোর্স দল।

মিলনমেলা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। সেলফি, ফটোসেশন, কোলাকুলি, পরস্পর আলাপে জমে উঠে ‘জেএমসি স্পোর্টস কার্নিভাল ১.০’। অ্যালামনাইদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মনন, মুস্তাফিজুর রহমান, রোদেলা বিন্তু, নাঈম হাসান, রবিউল হাসান, অমিত পল, মাসুম বিল্লাহ, শাহরিয়ার হাসান, সামান্থা আলী, জুবায়ের আহমেদ। আয়োজনটির ব্যবস্থাপনায় ছিলো জেএমসি মিডিয়া ক্লাব।