ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘প্রতিশোধ নেওয়াটা জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে।’

শনিবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ খবর জানিয়েছে। মোজতবা বলেন, ‘আমরা সেই অপরাধী ও ঘৃণ্য ঘাতকদের কাছ থেকে শহীদ নেতা এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছি। ইরানের এ প্রতিশোধ অনিবার্য।’

ছয় দিনের শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার আলী খামেনির লাশ জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়। ওই আনুষ্ঠানিকতায় খামেনির তিন ছেলে উপস্থিত হলেও ছিলেন না সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা। ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তার কারণে তাকে জনসমক্ষে আনা হয়নি। বাবার ও উত্তরসূরির দাফনের পর প্রথম বিবৃতি দিলেন মোজতবা। ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বোমায় নিহত হন আলী খামেনি। ওই হামলায় মোজতবাও আহত হয়েছিলেন।

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম : হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় শনিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তারা বলছে, এ সময়ের মধ্যে ইরানকে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে হবে-হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। সেই সঙ্গে জাহাজগুলোর ওপর হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের কাছে সরাসরি ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ওয়াশিংটন একটি ‘প্রকাশ্য জবাবদিহির ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। মঙ্গল ও বুধবার পালটাপালটি হামলার পর এ অগ্রগতি এলো।

এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে-ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরান তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে-এমন দাবিতে তিনি এ হুমকি দেন। সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরানের দিকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত ও তাক করা আছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, ইরান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি লেখেন, ইতোমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনী এক বছর সময়কালে ইরানের সব এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম ও প্রস্তুত।

সংযত হওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের : পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়বে। জিও টিভি অনলাইন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি কারও স্বার্থেই নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আলজাজিরাকে বলেন, প্রয়াত আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধার আনুষ্ঠানিকতার আগে থেকেই লাখ লাখ ইরানি প্রতিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠা অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে।