বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩–২ গোলে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।

ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষদিকে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোল ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

তবে ম্যাচের শেষদিকে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। তাদের দাবি, মেসির সমতাসূচক গোলের আগে আক্রমণ গড়ার সময় ফাউল হয়েছিল। এর আগে একই ধরনের ঘটনার কারণে মিশরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরবর্তী ঘটনায় ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তাদের।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ম্যাচের শেষ দিকে মিশরের বেঞ্চের একজন কোচিং স্টাফকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপরই রেফারির দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে ‘এক্স’ আকৃতির একটি ইশারা করেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান।

এই ‘এক্স’ ইশারার অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ জানাতে এমন সংকেত ব্যবহার করা হলেও, এই ম্যাচে হাসান ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই এটি করেছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এরপর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন মিশরের এক বদলি খেলোয়াড়। পরে কোচ ইব্রাহিম হাসান এসে হোসাম হাসানকে শান্ত করেন এবং রেফারির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ইব্রাহিমকে রেফারির দিকে ‘থাম্বস-আপ’ ইশারা করতেও দেখা যায়। তবে ঘটনাটির পর রেফারি আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, ‘খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, ন্যায়বিচার কোথায়? সুন্দর ভাষায় বিষয়টি বলতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে এই ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল মিশর। পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘এটাই আমার প্রতিবাদের ভাষা। এই বিশ্বকাপে আমি আর একটি ম্যাচও দেখব না।’