সম্প্রতি এক গভীর রাতে স্বপ্নযোগে বিচ্ছু দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ঘুম ভাঙার পর তড়িঘড়ি করে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাহবুবুর রশিদ
বিচ্ছু : কেমন আছেন মেসি ভাই?
মেসি : আর কেমন থাকি ভাই! একটা গোল বলকে গোল করার জন্য সারা জীবন দৌড়াদৌড়ি করে যাচ্ছি। মানুষ ভাবে আমি ফুটবল খেলি, আসলে তো আমি বলটারে গোল করি!
বিচ্ছু : আপনার পায়ে কী এমন জাদু আছে যে বল পায়ে গেলেই গোল হয়ে যায়?
মেসি : জাদু-টাদু কিছু নারে ভাই। বলটা আমার পায়ে আসার পর আর যেতে চায় না। চুম্বকের মতো আটকে থাকে। শেষে বিরক্ত হয়ে একটা জোরালো লাথি মেরে গোলপোস্টে পাঠিয়ে দিই!
বিচ্ছু : গতদিন আস্ত একটা পেনাল্টি মিস করলেন যে?
মেসি : আসলে পেনাল্টি আর পোল্ট্রি মুরগি দুটোই আমার খুব অপছন্দ! আমি মাগনা গোল দিতে পছন্দ করি না। ঘাম ঝরিয়ে, ডিফেন্ডারদের ঘুরিয়ে গোল দিতে বেশি মজা পাই।
বিচ্ছু : জানেন তো, বাংলাদেশে আপনার অসংখ্য অন্ধ ভক্ত আছে?
মেসি : কীভাবে জানব বলেন? আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না! শুধু ফেসবুকে লাভ ইউ মেসি লিখলে তো হবে না, মাঝে মাঝে আম-কাঁঠালও পাঠাতে হয়!
বিচ্ছু : বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আপনি শীর্ষে। গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনাও প্রবল। কী বলবেন?
মেসি : দেখেন, আমি শুধু গোল্ডেন বুটের জন্য খেলছি না। আমি তো আবার মোজা ছাড়া বুটই পরতে পারি না। তাই গোল্ডেন বুটের সঙ্গে একটা গোল্ডেন মোজাও দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি!
বিচ্ছু : যদি সত্যিই গোল্ডেন বুট জিতে যান, তাহলে সেটা নিয়ে কী করবেন?
মেসি : এ প্রশ্নের উত্তর একটু আবেগের সঙ্গে দিতে চাই। বিয়ের সময় অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই স্ত্রীকে ইমিটেশনের গয়না দিয়েই বিয়ে করেছিলাম। এখন তিন সন্তানের বাবা হয়ে গেছি, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুযোগ পেলেই সেই ইমিটেশনের গল্প তুলে খোঁচা দেয়! তাই ভাবছি, যদি গোল্ডেন বুটটা পাই, সরাসরি জুয়েলারি দোকানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ফেলব। তারপর সেই সোনা দিয়ে স্ত্রীকে একটা সুন্দর নাকফুল বানিয়ে উপহার দেব।
বিচ্ছু : আচ্ছা, আপনার সবচেয়ে বড় ভয় কী?
মেসি : খেলা চলাকালে ভয় পাই না। তবে ভয় লাগে যখন দেখি আর্জেন্টিনা ম্যাচ হারলে বাংলাদেশে কিছু সমর্থক এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুকে নিখোঁজ হয়ে যায়!
বিচ্ছু : শেষ প্রশ্ন। বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য কিছু বলবেন?
মেসি : অবশ্যই। তোমরা আমাকে এত সাপোর্ট কর, এত পতাকা ওড়াও, এত তর্ক কর-এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে একটা অনুরোধ, বিশ্বকাপ শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও একটু সময় দিও। আর আমের মৌসুমে এক-দুই কেজি আম পাঠাতে ভুলো না!
বিচ্ছু : ধন্যবাদ মেসি ভাই, বিচ্ছুকে সময় দেওয়ার জন্য।
মেসি : বিচ্ছুকেও ধন্যবাদ, আম পাঠানোর ঠিকানা ইনবক্সে দিচ্ছি কিন্তু।








