আষাঢ় মাসের দুই সপ্তাহ পার হতে চললেও প্রকৃতিতে দেখা নেই আষাঢ়ে বৃষ্টির। উপরন্তু তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই আষাঢ়েও তিনদিন যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। গত প্রায় দু’মাস ধরেই যশোরে টানা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে আষাঢ় মাসের অর্ধেক পার হলেও সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। তাই প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। যা যশোর থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি বেশি। এর আগের শনিবার (২০ জুন) যশোর জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পরদিনও যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।
এদিকে গ্রীষ্মের পর ঋতুচক্রের পঞ্জিতে বর্ষার আবির্ভাব হলেও প্রকৃতিতে বৃষ্টির দেখা না মেলায় তাপপ্রবাহে গোটা যশোরাঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে মরুর উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলে আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে হাঁটলেও গরম বাতাসে শরীর ঝলসে যাচ্ছে। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবত, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন।
যশোর শহরের সার্কিট হাউজ এলাকার ডাব বিক্রেতা কামাল হোসেন জানান, গরমে অনেক মানুষ ডাব খেতে আসছেন। কিনে বাড়িতেও নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডাবের দামও বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে গ্রাম থেকে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।
যশোর শহরের খড়কি এলাকার রিকসাচালক জলিল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলে গরম একটু কমে। কিন্তু বৃষ্টি থামলেই আবার গরম পড়ছে। আষাঢ় মাসের অর্ধেক চলে গেলেও সেই বৃষ্টি নেই। একটু রিকসা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে।
যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ের আখের রস বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, গরমে অনেকেই আখের রস খাচ্ছেন। কিন্তু গরমের মধ্যে বসে রস বিক্রি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন যশোরে ব্যারোমিটারের পারদ চড়েছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১৯৭২ সালে ১৮ মে। সেদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিলো ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।
মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম








