ঢাকাই সিনেমার নায়ক শাকিব খানকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে নানা আলোচনা ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিদেশে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে অনলাইনে নানা দাবি ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডে দিনকয়েক আগে ‘সোলজার’ নামে একটি সিনেমার শুটিং করে দেশে ফিরেই শাকিব খান উড়াল দিয়েছেন আমেরিকায়। সেখানে গিয়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালান বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তিনি নিয়মিত বৈঠক ও আড্ডা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে শেখ হাসিনার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের সঙ্গে আড্ডা দিতে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে ফাইনাল ম্যাচ খোকন ও শাকিব খান একসঙ্গে বসেই উপভোগ করেন নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের ওয়ানট্যাগ এলাকায় এন-ক্যাফে নামে একটি রেস্টুরেন্টে বসে। আর আড্ডার সেসব ছবি খোকন ফেসবুকে ভেরিফায়েড একাউন্টে পোস্টও করেছেন। আশরাফুল আলম খোকনের বিরুদ্ধে দুদক এবং জুলাই গণহত্যার ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা মামলা রয়েছে। এ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী দম্পতি হিল্লোল ও নওশীন। এ রেস্টুরেন্টেই নিয়মিত আড্ডা দেন খোকন ও আওয়ামী লীগের পলাতক বেশ কয়েকজন নেতা, যাদের বিরুদ্ধে দেশে মামলা রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সেখানে বসেই তারা দেশবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর তাদের সঙ্গেই বিভিন্ন আড্ডায় সময় কাটছে শাকিবের। পতিত আওয়ামী লীগ ও দেশবিরোধীদের সঙ্গে শাকিবের যোগাযোগ এখনো রয়েছে, সেটা এসব আড্ডায়ই প্রমাণ করে।

অবশ্য শাকিব খানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা এটাই নতুন নয়। ২০১৮ সালের স্বৈরাচার শাসক শেখ হাসিনার অবৈধ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে একটি ভিডিও ফেসবুকে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড পেইজে (এসকে ফিল্মস) প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেটি পরবর্তী পাঁচ বছর তার পেইজের ওয়ালে শোভা পেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তা সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে যারাই ভিডিওটি নিজেদের ওয়ালে আপলোড করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ভিডিওর মালিকানা দাবি করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে কপিরাইট রিপোর্ট করা হয় শাকিব খানের পক্ষ থেকে।

একটা সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হওয়ার জন্য বেশ দৌড়ঝাঁপও করেছিলেন এ অভিনেতা। সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বড় ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী (দিপু চৌধুরী) ছিলেন শাকিব খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিতেন। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর দিপু চৌধুরী মারা গেলে শাকিব খান ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেছিলেন। এই দীপু চৌধুরীর সঙ্গে শাকিবের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল চলচ্চিত্র লীগের নেতা প্রযোজক-পরিচালক মো. ইকবালের সূত্রে। এরপর আওয়ামী লীগের সুবিধা পেতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছেলে প্রযোজক আরশাদ আদনানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান শাকিব। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আরশাদকেও এড়িয়ে চলেন তিনি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই ইনাদীং আবারও যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে নিউইয়র্কের আওয়ামী লীগের পালতক ও মামলার জুলাই হত্যা মামলার আসামি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডার বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে শাকিব খানের হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সেটার কোনো জবাব দেননি এ অভিনেতা। এদিকে অভিনেত্রী শবনম বুবলী সম্প্রতি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছেন। ফেসবুকের এক পোস্টে সেই সন্তানের পিতা হিসাবে শাকিব খানের নাম উল্লেখ করলেও, সেটা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন এ নায়ক। এখনো দেননি অফিসিয়াল বিবৃতি।