বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই এফডিসিতে উৎসবের আমেজ। বছরের অন্য সময় অনেক শিল্পীর দেখা না মিললেও নির্বাচন এলেই যেন আবারও প্রাণ ফিরে পায় চলচ্চিত্রপাড়া। প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম এফডিসি। আর এই নির্বাচনের আবহ নিয়েই নিজের স্বভাবসুলভ রসিক ভঙ্গিতে কথা বলেছেন কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার।

তিনি বলেন, ‘এফডিসিতে ভোট তো চলে এসেছে তাই অনেক মানুষ দেখছি । কিন্তু সাধারণ সময় এফডিসিতে এসে দেখি মানুষ নেই, দুই-একটা কুকুর ঘুরে। সত্যি কথা বলছি।’

চলচ্চিত্রে কাজ কমে যাওয়ায় নিয়মিত এফডিসিতে আসা হয় না বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘এখন নাটক আর বিজ্ঞাপনের কাজ বেশি করি। তাই এফডিসিতে খুব একটা আসা হয় না। তবে নির্বাচন এলেই চলে আসি। কারণ এ সময় পুরোনো অনেক শিল্পীর সঙ্গে দেখা হয়, নতুনদের সঙ্গেও পরিচয় হয়। সবাইকে একসঙ্গে দেখতে খুব ভালো লাগে।’

কাকে ভোট দিবেন? জানতে চাইলে হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘ভোটের আগের রাতে বসে চিন্তা করবো এত ভদ্র মানুষের ভিড়ে কাকে ভোট দেওয়া যায়। দুই প্যানেলের সবাই ভালো মানুষ। তবে একটা ভোট আমি এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারি। আমার শিষ্য চিকন আলীকে আমি অবশ্যই ভোট দেবো।’

চিকন আলীকে ভোট দেওয়ার পেছনের কারণও হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরেন হারুন কিসিঞ্জার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন নির্বাচন করিনি। আগে থেকেই বলেছি, চিকন আলী নির্বাচন করছে। তাকে একটা ভোট দেবো। আমি মারা গেছি এমন গুজব ছড়ানোর পর সে অনেক কান্নাকাটি করেছিলো। তাই ওকে একটা ভোট তো দিতেই হবে।’ বলেই হেসে ওঠেন হারুন কিসিঞ্জার।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন হারুন কিসিঞ্জার। তার মতে, শিল্পীদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়, যা পরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ‘আগে অনেক বড় বড় তারকা নির্বাচনের সময় বলেছিলেন শিল্পীদের জায়গা দেবেন, ফ্ল্যাট দেবেন, থাকার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। আমার কথা হলো, এখন যারা নির্বাচন করছেন তারা যেন মিথ্যা কথা না বলেন। যেটা পারবেন, শুধু সেটাই প্রতিশ্রুতি দিন। শিল্পীদের সঙ্গে মিথ্যা বলার দরকার নেই। পরে কিন্তু ধরা খেতে হবে।’

শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে অতীতের স্মৃতিও তুলে ধরেন হারুন কিসিঞ্জার। তার মতে, আগে নির্বাচনকে ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো, সেটি এখন কিছুটা কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলো অনেক বেশি উৎসবমুখর ছিল। এমন পরিবেশ হতো যে জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানিয়ে দিতো। দেশের বাইরের মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে জানতো। এবার সেই জৌলুস কিছুটা কমেছে। তারপরও আমরা আনন্দ করছি, সবাই একসঙ্গে হচ্ছি এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

 

এমআই/এলআইএ