ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে’। ১৮৬৬ সালের একটি পুরোনো প্রবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া এই বহুল প্রচলিত কথাটি আমরা সবাই কম-বেশি শুনেছি। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কমানো না গেলেও, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি আপেল রাখা যে স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। বিষয়টি আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করে। তবে একটি রসালো আপেলের পূর্ণ স্বাদ ও পুষ্টি পেতে হলে এর স্থায়িত্বকাল এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

আপেল কতদিন তাজা থাকবে তা মূলত নির্ভর করে এর সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর। আমরা বাজার থেকে যে আপেল কিনি, তা অনেক সময় কৃত্রিমভাবে দীর্ঘমাস কোল্ড স্টোরেজে তাজা রাখা হয়। তবে ঘরে আনার পর এর স্থায়িত্বকাল ভিন্ন হয়।

স্বাভাবিক তাপমাত্রায়: ৫ থেকে ৭ দিন।

প্যান্ট্রিতে: প্রায় ৩ সপ্তাহ।

রেফ্রিজারেটরে: ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ (আস্ত ও না ধুয়ে রাখলে)।

কেটে টুকরো করলে: ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন এবং ডিপ ফ্রিজে (ফ্রিজার) ৮ মাস পর্যন্ত।

আপেলসস বানিয়ে রাখলে: ফ্রিজে ৭ থেকে ১০ দিন এবং ফ্রিজারে ২ মাস।

রান্না করা আপেল (যেমন আপেল পাই): ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন।

একটি তাজা আপেল সাধারণত শক্ত, উজ্জ্বল ত্বকের এবং চমৎকার সুগন্ধযুক্ত হয়। কিন্তু আপেলের গায়ে নরম দাগ বা ক্ষত দেখা দিলে, চামড়া কুঁচকে গেলে, বাদামি দাগ বা গর্ত হলে এবং ত্বক থেকে তরল বের হলে বুঝতে হবে তা নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো আপেল খাওয়া একদমই উচিত নয়। কারণ এতে ক্ষতিকারক ছত্রাক বা মোল্ড জন্মায়। সেখান থেকে ‘প্যাটুলিন’ নামক মাইকোটক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি হতে পারে। এটি শরীরে প্রবেশ করলে বমি বমি ভাব, আলসার এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

-আপেল খাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ধোয়া উচিত, আগে থেকে ধুয়ে রাখলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

-কেটে রাখলে অক্সিজেনের সংস্পর্শে দ্রুত অক্সিডেশন ঘটে রঙ বদলে যায়; তাই আস্ত রাখাই শ্রেয়।

-ফ্রিজের ক্রিস্পার ড্রয়ারে আস্ত আপেল রাখা সবচেয়ে ভালো। কাটা টুকরো ভালো রাখতে ১ কাপ পানিতে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে তাতে ডুবিয়ে রাখা যায়।

-আপেল থেকে নির্গত ইথিলিন গ্যাস অন্য আপেলকে দ্রুত পাকিয়ে ফেলে। তাই প্রতিটি আপেল আলাদা করে কাগজ বা প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

একটি মাঝারি আকারের আপেলে প্রায় ৯৫ ক্যালোরি, ২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৪.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। এ ছাড়া এটি দৈনিক চাহিদার ৯ শতাংশ ভিটামিন সি, ৫ শতাংশ কপার এবং ৪ শতাংশ পটাশিয়াম সরবরাহ করে।

-আপেলের দ্রবণীয় ফাইবার এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায়। যা স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে।

-আপেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড ফুসফুস এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

-উচ্চ ফাইবারের কারণে এটি পেট ভরা রাখে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একটি আপেল খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যায়।

-এটি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বজায় রাখে এবং মানসিক অবক্ষয় বা বার্ধক্যের লক্ষণ ধীর করতে সাহায্য করে।

আপেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। হুট করে ডায়েটে আপেলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেট ব্যথার মতো হজমের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া যারা কম কার্বোহাইড্রেটের বা কিটোজেনিক ডায়েট অনুসরণ করেন, তাদের আপেলের কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের দিকে নজর রাখা উচিত। সুস্বাস্থ্যের জন্য আপেলের পাশাপাশি কলা, ব্লুবেরি, ব্রকলি বা পালং শাকের মতো বৈচিত্র্যময় ফল ও শাকসবজি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন।