মেকআপের জগতে এখন সবচেয়ে আলোচিত দুটি বেস পণ্য হলো স্কিন টিন্ট এবং ফাউন্ডেশন। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এখন প্রায় সবাই এই দুই প্রসাধনীর নামের সঙ্গে পরিচিত। তবে দেখতে কিছুটা মিল থাকলেও কাজের দিক থেকে এদের মধ্যে রয়েছে বেশ পার্থক্য। অনেকেই বুঝতে পারেন না, প্রতিদিনের জন্য কোনটি ব্যবহার করবেন আর বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী।
রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের ধরন, প্রয়োজন এবং উপলক্ষ অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেখতে একরকম হলেও দুটি প্রসাধনীর কাজ কিন্তু আলাদা। তাই কেনার আগে স্কিন টিন্ট ও ফাউন্ডেশনের পার্থক্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
স্কিন টিন্ট কী?
স্কিন টিন্ট হলো অত্যন্ত হালকা ধরনের একটি বেস মেকআপ পণ্য। এটি ত্বকের ওপর খুব পাতলা একটি স্তর তৈরি করে, যা ত্বকের স্বাভাবিক রং পুরোপুরি ঢেকে দেয় না। বরং ত্বককে আরও সমান, সতেজ এবং প্রাকৃতিক দেখাতে সাহায্য করে। যাদের ত্বকে খুব বেশি দাগ বা পিগমেন্টেশন নেই এবং যারা নো-মেকআপ বা মিনিমাল মেকআপ লুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্কিন টিন্ট বেশ ভালো কাজ করে।
স্কিন টিন্টের সুবিধা
বর্তমানে বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ স্কিন টিন্টে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, গ্লিসারিন কিংবা এসপিএফের মতো ত্বকবান্ধব উপাদান থাকে। ফলে এটি শুধু মেকআপই নয়, ত্বকের যত্নও নেয়। এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং মুখে একটি স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা এনে দেয়। অফিস, কলেজ, দিনের বেলা বাইরে যাওয়া কিংবা প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য স্কিন টিন্ট একটি ভালো বিকল্প।
বৃষ্টির দিনে ভারী মেকআপ না করাই ভালো
ফাউন্ডেশন কী?
ফাউন্ডেশন হলো এমন একটি বেস মেকআপ পণ্য, যা ত্বকের বিভিন্ন দাগ, ব্রণের চিহ্ন, পিগমেন্টেশন, লালচে ভাব কিংবা ডার্ক সার্কল ঢেকে একটি সমান ও নিখুঁত বেস তৈরি করে। এটি সাধারণত লাইট, মিডিয়াম এবং ফুল কভারেজ- এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। পাশাপাশি ম্যাট, স্যাটিন ও ডিউই ফিনিশেও পাওয়া যায়।
ফাউন্ডেশনের সুবিধা
ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর কভারেজ। ত্বকের অসমান রঙ, ব্রণের দাগ কিংবা অন্যান্য ত্রুটি সহজেই ঢেকে দিতে পারে এটি। এছাড়া দীর্ঘ সময় মেকআপ ঠিক রাখতে ফাউন্ডেশনের বিকল্প নেই। তাই বিয়ে, পার্টি, উৎসব, ফটোশুট কিংবা দীর্ঘ সময়ের অনুষ্ঠানে এটি বেশি ব্যবহার করা হয়।
স্কিন টিন্ট ও ফাউন্ডেশনের মূল পার্থক্য
দুই পণ্যের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো কভারেজে। স্কিন টিন্ট খুবই হালকা কভারেজ দেয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে ফাউন্ডেশন ত্বকের প্রায় সব দাগ ঢেকে একটি নিখুঁত ও মসৃণ লুক তৈরি করে।
ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। স্কিন টিন্ট অনেকটা ময়েশ্চারাইজারের মতো হাত দিয়েই সহজে লাগানো যায়। কিন্তু ফাউন্ডেশন সমানভাবে বসাতে সাধারণত মেকআপ ব্রাশ, স্পঞ্জ বা বিউটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করতে হয়।
স্থায়িত্বের দিক থেকেও ফাউন্ডেশন এগিয়ে। স্কিন টিন্ট কয়েক ঘণ্টা পর হালকা হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ভালো মানের ফাউন্ডেশন অনেক বেশি সময় একইভাবে টিকে থাকে।
আপনার জন্য উপযুক্ত
যদি প্রতিদিনের জন্য হালকা, স্বাভাবিক ও সতেজ লুক চান, তাহলে স্কিন টিন্টই ভালো পছন্দ। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি ত্বকে ভারী অনুভূতি তৈরি করে না। অন্যদিকে যদি ত্বকের দাগ, ব্রণের চিহ্ন বা পিগমেন্টেশন ঢাকতে চান কিংবা এমন কোনো অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ ঠিক রাখতে হবে, তাহলে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করাই ভালো।
আরও পড়ুন
প্রতিদিন ৫ মিনিটের যত্নে ফিরবে নখের সৌন্দর্য
ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন
যে পণ্যই ব্যবহার করুন না কেন, আগে ত্বক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে তারপর মেকআপ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্যই নির্বাচন করা। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট ফর্মুলা এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং বা ডিউই ফিনিশের পণ্য বেশি উপযোগী।
আরও পড়ুন
পারফিউম দামি নয়, দীর্ঘক্ষণ সুগন্ধ চাইলে মানতে হবে যে নিয়ম
সুন্দর মেকআপের মূল রহস্য কেবল দামি প্রসাধনী নয়, বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া। প্রতিদিনের জন্য স্কিন টিন্ট আর বিশেষ দিনের জন্য ফাউন্ডেশন বেছে নিলে মিলবে প্রাকৃতিক ও আকর্ষণীয় লুক।
সূত্র: এলি ইন্ডিয়া, বি বিউটিফুল ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই








