গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই মায়ের প্রতিটি খাবার শুধু তার নিজের শরীরের চাহিদাই পূরণ করে না, বরং গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে প্রথম তিন মাস বা প্রথম ত্রৈমাসিক ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এ সময় অনেকেরই বমি বমি ভাব, মর্নিং সিকনেস, ক্লান্তি কিংবা খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। তাই পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যজনিত ঝুঁকি এড়িয়ে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসায় মানুন জরুরি কিছু নিয়ম
প্রথম তিন মাসে কী ধরনের খাবার বেশি উপকারী?
ফোলেটসমৃদ্ধ খাবার
ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এজন্য পালং শাক, ব্রোকলি, মসুর ডাল, ছোলা, কমলালেবু, অ্যাভোকাডো এবং ফোলেটসমৃদ্ধ সিরিয়াল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা হয়।
পর্যাপ্ত প্রোটিন
গর্ভের শিশুর টিস্যু, পেশি ও বিভিন্ন অঙ্গের দ্রুত বিকাশের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, চর্বিহীন মুরগির মাংস, কম পারদযুক্ত মাছ, টোফু, পনির, ডাল, শিম এবং দুধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন
ডেলিভারির আগেই হসপিটাল ব্যাগ গুছিয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন
গোটা শস্য
হোল হুইট, ওটস, ব্রাউন রাইস, মিলেট ও কিনোয়ার মতো গোটা শস্য শরীরকে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ফাইবার সরবরাহ করে। এগুলো গর্ভাবস্থায় সাধারণ একটি সমস্যা-কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
রঙিন ফল ও শাকসবজি
প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। লেবুজাতীয় ফল, বেরি, কলা, গাজর, মিষ্টি আলু এবং সবুজ পাতাযুক্ত শাক এ সময়ের জন্য ভালো পুষ্টির উৎস।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি
শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠন এবং মায়ের হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুধ, দই, পনির, তিল, রাগি এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, তাই এর পর্যাপ্ত উপস্থিতিও জরুরি।
আরও পড়ুন
ফিস্টুলামুক্ত জীবন হোক প্রতিটি নারীর অধিকার
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। চিকিৎসক ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না দিলে সাধারণভাবে দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ডাবের পানি, ঘোল, স্যুপ কিংবা পরিমিত ফলের রসও শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে বমি বমি ভাব থাকলে।
গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা, পুষ্টির চাহিদা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।
তথ্যসূত্র: মায়োক্লিনিক, হেলথলাইন
জেএস/








