আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠার আগেই একটা পরিসংখ্যান এসেছিল— বিশ্বকাপে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫–তে থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হয়েই সেমিফাইনালে চলে যেতে পারে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেটিই করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কি আর কোনো দলের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে?

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে হিসাব করলে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল, যারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১৫ কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যে দলগুলোর মুখোমুখি হয়েছে, তাদের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে সুইজারল্যান্ডই (১৯) ছিল বিশ্বকাপের আগে সেরা র‍্যাঙ্কিংধারী। তার আগে মিসর (২৯), কেপ ভার্দে (৬৭), জর্ডান (৬৩), অস্ট্রিয়া (২৪) ও আলজেরিয়ার (২৮) মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই দলগুলোর গড় র‍্যাঙ্কিং করলে দাঁড়ায় ৩৮।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম গড় র‍্যাঙ্কিংয়ের দলের সঙ্গে খেলে সেমিফাইনালে যাওয়ার ঘটনা নেই আর কোনো দলের। তবে এই হিসাবটা ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে, কারণ বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালু হয়েছিল ১৯৯২ সালে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলেছে মোট ৩৬ দল। তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা ছাড়া বাকি ৩৫ দলই সেমিফাইনালের আগে অন্তত একটি শীর্ষ ১৫ দলের মুখোমুখি হয়েছে। এই র‍্যাঙ্কিংটি হিসাব করা হয়েছে বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলগুলোর সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী।

এই বিশ্বকাপেই যেমন ফ্রান্স সেমিফাইনালের আগে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল সেনেগাল (১৫) ও কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর (৭)। স্পেনকে নকআউট পর্বে পার হতে হয়েছে পর্তুগাল (৫) ও বেলজিয়ামের (৯) বাধা। আর্জেন্টিনা ছাড়া র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডের। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া (১১) ও শেষ ষোলোতে মেক্সিকো (১৪) বাদে তাদের বাকি চার প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫–এর বাইরের দল। যদি হিসাবটা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এ নিয়ে আসা যায়, তাহলে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা কাউকেই শীর্ষ দশের কোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি।

আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, এই বিশ্বকাপের আগে সেমিফাইনালে খেলা দলগুলোর মধ্যে কার প্রতিপক্ষ সবচেয়ে সহজ ছিল? আর্জেন্টিনার কথা বলা হয়েছে আগেই। ২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমির আগপর্যন্ত শীর্ষ ১৫–তে থাকা মাত্র একটি দলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল—গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম (৩ নম্বর)। আবার ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়েও শীর্ষ ১৫–তে থাকা মাত্র একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিল সেমিফাইনালে যাওয়ার আগে—গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স (৯)।

২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট তুরস্কও গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পর শীর্ষ ১৫-তে থাকা আর কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি। আবার সেই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট জার্মানি সেমির আগে শীর্ষ ১৫–তে থাকা শুধু আয়ারল্যান্ড (১৫) ও যুক্তরাষ্ট্রের (১৩) মুখোমুখি হয়েছিল।


এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ১৯৯৪ থেকে শুরু করে কোন দলের সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রাটা সবচেয়ে কঠিন ছিল? ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোকে সেমির আগেই চারটি শীর্ষ ১৫–এর দলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া (১২) ও বেলজিয়ামের (২) সঙ্গে খেলার পর নকআউটে স্পেন (৭) ও পর্তুগাল (৯)। ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স যেমন সেমিফাইনালের আগেই খেলেছিল শীর্ষ ১৫–তে থাকা চারটি দলের বিপক্ষে—পেরু (১১), ডেনমার্ক (১২), আর্জেন্টিনা (৫) ও উরুগুয়ে (১৪)। আবার ২০০২ বিশ্বকাপে সহস্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া সেমির আগে খেলেছিল শীর্ষ ১৫–তে থাকা চারটি দলের বিপক্ষে—যুক্তরাষ্ট্র (১৩), পর্তুগাল (৫), ইতালি (৬) ও স্পেন (৮)।

বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ৭২ বছরের রেকর্ডে ভাঙল আর্জেন্টিনা