দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা ঘরে তুলল স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে পরাজিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো দলই জালের দেখা পায়নি, তবে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল স্পেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসিকে কড়া মার্কিংয়ে রেখে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে কোনো শটই নিতে দেয়নি স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র বজায় থাকে এবং স্পেনের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে (৯০+৩ মিনিট) এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেন ফেরান তোরেস। এই গোলটির পর আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ১১৫ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ এবং ১১৭ মিনিটে তার জোরালো শট স্পেনের ডিফেন্ডার মিকেল মেরিনো নিজের শরীরে প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর গোল শোধ করতে না পারায় ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্পেন পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেছিল এবং লিওনেল মেসিকে তার স্বাভাবিক ছন্দ থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি চোট ও কৌশলের কারণে বারবার পরিবর্তন আনলেও স্পেনের সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে শেষ রক্ষা হয়নি। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনায় নামা ফেরান তোরেস এবং লামিনে ইয়ামালের নৈপুণ্য এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জয়ের মাধ্যমে স্পেন ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করল।
রাজনীতি
আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেয়ার করুন







