মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ির রামচন্দ্রপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার গভীর রাতে ওই মন্দির এলাকার রিসোর্ট থেকে জেলা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হরিদাসকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের ওই মামলায় সোমবার তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডির ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘গ্রেফতার হরিদাস চন্দ্রকে আদালতের মাধ্যমে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’
সোমবার সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস-এর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ টাকা অর্থপাচারের মামলা করেছে সিআইডি।
তিনি আরও জানান, হরিদাস গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশবাড়ী থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে পরে দেশে ফিরে আসেন। ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নামধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি প্রকাশ করতেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হরিদাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি দেওয়া, বদলি করানোর মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং হুন্ডি সংক্রান্ত ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে থাকা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করেছে সিআইডি। অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার বিরুদ্ধে বনানী থানার আগের একটি মামলার তদন্তকালে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার যে মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা, সেই মন্দির প্রাঙ্গণে একটি ৮০ ফুট উচ্চতার শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণের তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সে সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, এটি নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। হরিদাসকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








