রোববার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের ওপর কিছু তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া গেছে খেলাপি ঋণের টাকার এই পরিমাণ। বলা বাহুল্য, পরিমাণটা বিস্ময়কর। খেলাপি ঋণের এই পরিমাণ টাকা প্রমাণ করছে দেশের ব্যাংক খাতের অবস্থা কতটা নাজুক। মন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পুরো আর্থিক খাতে বর্তমানে একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি যোগ করেছেন, রাজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানোই সরকারের লক্ষ্য।

খেলাপি ঋণ দেশের অর্থনীতিতে এক অনিবার্য সংস্কৃতি হয়ে পড়েছে। এ প্রক্রিয়ার শুরু অনেক আগে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তদবির, ঘুস-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঋণের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শুধু প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের ৬১ শতাংশ। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও ঋণ কেলেঙ্কারি শেষ হয়ে গেছে বলা যাবে না। পুরোনো সিন্ডিকেটগুলো এখনো সক্রিয়। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ কতটা বাস্তব রূপ নেবে, তা এক প্রশ্ন বটে। বস্তুত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন কাজ। সবচেয়ে বড় কথা, খেলাপি সংস্কৃতি দূর করতে না পারলে কোনো আশাবাদই ফল বয়ে আনবে না। বলা নিষ্প্রয়োজন, বর্তমানে ব্যাংক খাতের যে দশা, তাতে এই খাতের ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন পড়েছে। ঋণ প্রদান ও ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন।

ঋণখেলাপিদের জন্য সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার নিয়ম চালু করলে অনেক ফল পাওয়া যাবে বলা যায়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে গভীরভাবে সমস্যার ভেতরে যেতে হবে এবং এমন এক শৃঙ্খলা উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণের কুফল থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়। তা না হলে অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ বিফলে যেতে বাধ্য।