প্রশান্ত মহাসাগরে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে সফলভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী।

চীনের পক্ষ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে তাদের ‘বার্ষিক সামরিক কর্মসূচির একটি নিয়মিত অংশ’ এবং এটি ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি’ বলে দাবি করা হলেও, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং চীনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে একে অঞ্চলের ‘স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যদিও চীন এই সামরিক মহড়া শুরু করার আগেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সরকারগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু এই পরীক্ষা অঞ্চলটিকে ‘অস্থিতিশীল’ করে তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) ফিজির রাজধানী সুভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অস্ট্রেলিয়া বরাবরই স্পষ্ট করে বলেছে, এই পরীক্ষা চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ। তারা অঞ্চলটির প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বচ্ছতা রক্ষা করছে না এবং নিজেদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দিচ্ছে না।”

চীনের এই শক্তি প্রদর্শনের ঠিক আগেই অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওশান অব পিস অ্যালায়েন্স’। এটি ফিজির ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক জোট, আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি চতুর্থ (যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনির পর)।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় আগামী এক দশকে ফিজির স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করবে ক্যানবেরা। তিনি একে ক্যানবেরার ইতিহাসে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টাগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন।

ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিটিভেনি রাবুকা এই চুক্তিটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এটি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।”

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো বাধা বা প্রতিক্রিয়া আসার আশঙ্কা করছেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিজির প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই চুক্তি চীনের সঙ্গে ফিজির সম্পর্ক বা চীনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।”

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ২০২২ সালে চীন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকেই বেইজিং সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে পারে- এমন আশঙ্কায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া।

গত সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়া ভানুয়াতুর সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা দেশটিতে যেকোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভানুয়াতুর প্রধান আইনশৃঙ্খলা অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ফিজির সফর শেষ করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সলোমন দ্বীপপুঞ্জে যাবেন দেশটির নতুন চীন-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়েলের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে।

বুধবার (৮ জুলাই) ব্রিসবেনে টোঙ্গা, সামোয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অ্যালবানিজ। এর মাধ্যমে পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে করা ‘পুকপুক চুক্তি’ কার্যকর হবে, যার আওতায় অস্ট্রেলিয়া দেশটির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং প্রায় ১০ হাজার পাপুয়া নিউগিনীয় নাগরিক অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন।

গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া এবং চীন বর্তমানে আমাদের এই অঞ্চলে একটি ‘স্থায়ী প্রতিযোগিতায়’ লিপ্ত রয়েছে।