দেশের ‘সামাজিক কাঠামো ও নৈতিক মূল্যবোধের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় প্রায় ২ হাজার সমকামী যাত্রী ও ব্রডওয়ে তারকা পাত্তি লুপোনসহ একটি মার্কিন প্রমোদতরিকে বন্দরে ভিড়তে দেয়নি তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রিচার্ড ব্র্যানসনের মালিকানাধীন ‘ভার্জিন ভয়েজেস’-এর ‘স্কারলেট লেডি’ নামের এই প্রমোদতরিটি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ভ্রমণের জন্য মার্কিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস’ দ্বারা ভাড়া করা হয়েছিল। রোববার (৫ জুলাই) এথেন্স থেকে ১০ দিনের এই যাত্রা শুরু হয়, যা একটি ‘অল-গে ভয়েজ’ বা ‘সম্পূর্ণ সমকামীদের সমুদ্রযাত্রা’ হিসেবে পরিচিত ছিল। সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের বন্দর নগরী কুসাদাসি ও পরে ইস্তাম্বুলে জাহাজটির নোঙর করার কথা ছিল।

তবে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পিত নোঙর বাতিল করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রমোদতরি এমন গোষ্ঠী দ্বারা ভাড়া করা হয়েছে যাদের সঙ্গে ‘আমাদের সমাজের কাঠামো ও নৈতিক মূল্যবোধ মেলে না। কর্তৃপক্ষ আরও যোগ করেছে, এই ধরণের ইভেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর আমাদের দেশে ঢোকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

এর আগে এই প্রমোদতরি কোনো ঝামেলা ছাড়াই একাধিকবার তুরস্কের বন্দরে ভিড়েছে। অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস জানিয়েছে, গত ২৫ বছরে তারা ইস্তাম্বুল ও কুসাদাসিতে ১৩ বার নোঙর করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রিচ ক্যাম্পবেল মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তে স্তব্ধ। কোম্পানির ৩৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তাদের পরিচয়ের কারণে এখানে নোঙর করতে নিষেধ করা হলো।

ক্যাম্পবেল সিএনএন-কে বলেন, সত্যি বলতে, এটি বেশ চমকপ্রদ। আর এর পেছনের কারণ হলো এটি সমকামীদের একটি দল। কোনো দেশ যখন ঠিক করে যে তারা কোন পর্যটকদের ঢুকতে দেবে, আর কাদের দেবে না, তখন তা আমার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।

জাহাজে পারফর্ম করতে যাওয়া ৭৭ বছর বয়সী ব্রডওয়ে অভিনেতা পাত্তি লুপোন ইনস্টাগ্রামে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, আগামী সপ্তাহে যে অ্যাটলান্টিস ক্রুজে আমি পারফর্ম করছি, সেটি তুরস্কে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু কারা জাহাজে আছেন- সেই কারণে তুরস্কে প্রবেশাধিকার দেওয়া হলো না। আমি ক্ষুব্ধ, তবে আমাদের যাত্রা চলছে কারণ জাহাজটি অন্য বন্দরে যাবে। আমি এই ক্রুজের সব চমৎকার পুরুষদের জন্য পারফর্ম করতে প্রস্তুত, যারা এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।

এদিকে, তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের পর আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রমোদতরিটির রুট পরিবর্তন করা হবে। তুরস্কের পরিবর্তে এখন মিশরের কায়রো ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এটি যাত্রা করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তুরস্ক সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর চলমান সমালোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দেশটিতে সমকামিতা অবৈধ না হলেও, ২০১৫ সাল থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে ইস্তাম্বুলে ‘প্রাইড মার্চ’ বা গৌরব যাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও তার ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা প্রায়ই এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এসএএইচ