আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার প্রকাশ্য কূটনৈতিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর।

সোমবার (৬ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’-এ মেলোনির একটি এডিটেড ছবি পোস্ট করে বিরোধের আগুন আরো উসকে দেন ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিটিতে ইঙ্গিত করা হয় যে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত। এডিটেড ছবিটিতে মেলোনিকে ট্রাম্পের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, “একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।”

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে এই ঘটনা ঘটলো, যেখানে জোটের অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এই দুই নেতারও মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্পের করা একটি দাবির পর এই বাদানুবাদ শুরু হয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সাম্প্রতিক জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে মেলোনি এই দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমি কখনোই অনুনয় করিনি।” 

ইতালির ‘রেতে ৪’ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলোনি তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আজ যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী নই; আমি গতকালও হাঁটু গেড়ে বসে পড়িনি। আমি এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিশ্বাস করেন যে, পশ্চিমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরো শক্তিশালী হয় এবং আমি এর জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে আরো যোগ করেন, “দৃঢ় সম্পর্ক স্পষ্টবাদিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, আর আমি একজন স্পষ্টভাষী মানুষ।”

দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই ব্যক্তিগত বাদানুবাদ এখন দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই বিরোধের জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বপরিকল্পিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

আনাদোলুর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞায় ইতালির সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি ও অনীহা এই দূরত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।